হাজীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। এ বছর উপজেলাজুড়ে মোট ২৯টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন উপলক্ষে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কারিগররা।
উপজেলা শহর এবং আশেপাশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মৃৎ শিল্পীরা দিনরাত কাজ করছেন প্রতিমা তৈরিতে, খড়, মাটি, বাঁশ এবং সুতলি দিয়ে মণ্ডপগুলোকে সাজিয়ে তুলতে। কারিগরদের হাতে প্রতিমাগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে, আর শেষ ধাপে চলছে রং তুলির কাজ। মণ্ডপের সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জাও সম্পন্ন হওয়ার পথে। এই বছরের দুর্গাপূজার প্রতিমা যেন বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁত হয়, সে বিষয়েও শিল্পীরা বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন।
দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। হাজীগঞ্জ থানার সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি মণ্ডপে একজন পুলিশ অফিসার এবং দুইজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে ৮ জন করে এবং সাধারণ মণ্ডপগুলোতে ৬ জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
সর্বমোট পাঁচটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহল দেবে উপজেলাজুড়ে, যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়। এছাড়াও, সেনাবাহিনী, র্যাব, এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে থাকবেন। প্রশাসনের এমন ব্যবস্থা পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রুহিদাস বণিক জানান, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের পূজার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন এবং আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আশা করছি, নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণভাবে আমরা এবারের দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারব।”
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কোনো প্রকার ছাড় দিচ্ছি না। সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের পুলিশের বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে মাঠে টহল চলছে, এবং আশা করছি অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এবারের পূজা সম্পন্ন হবে।”
দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি স্থানীয় সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রশাসনের নেওয়া এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পূজা কমিটির সম্পৃক্ততা নিশ্চয়ই এবারের দুর্গোৎসবকে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ করতে সহায়ক হবে।




















