Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)
শিরোনাম
স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ  রাজাপুরা আরেফিয়া মাদরাসা ও এতিম খানার জায়গা দখলের চেষ্টা বিএনপি’র সমাবেশে রেজাউল করিমের আস্থাভাজন’শাহাদাত প্রধানের নেতৃত্বে নজরকাড়া শোডাউন নারায়ণগঞ্জের স্কুলগুলোতে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন ডিসি জাহিদুল ইসলাম হাজীগঞ্জে বড় ভাইয়ের আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু মতলব উত্তরে বেড়ীবাঁধ রাস্তায় সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে অযত্নে ফোটা ভাঁট ফুল চাঁদপুর-২ থেকে বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্ত ক্যাটাগরিতে দাওয়াত পেলেন তানভীর হুদা হাজীগঞ্জে পরকীয়ার জেরে দুই সন্তানকে ফেলে এক সন্তানের জনকের সঙ্গে উধাও গৃহবধূ! মতলব উত্তরে দূর্গাপুর ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ মতলব উত্তরে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

মতলব উত্তরে বেড়ীবাঁধ রাস্তায় সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে অযত্নে ফোটা ভাঁট ফুল

মতলব উত্তর উপজেলার ৬৪ কিলোমিটার মেঘনা ধনাগোদা বেড়িবাঁধ সড়কের দু’পাশে, গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ও আনাচে-কানাচে অযত্নে অবহেলা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা ফোটা শুভ্র সাদা ভাঁটফুলের অপরুপ দৃশ্য চোখ জুড়াচ্ছে প্রকৃতি প্রেমিদের। উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে অযত্নে, অনাদরে ও অবহেলায় বেড়ে ওঠা গ্রামবাংলার অতি পরিচিত বহুবর্ষজীবী বুনো উদ্ভিদ হচ্ছে ভাঁট গাছ। গ্রাম বাংলার চিরচেনা এ ফুলটি হরহামেশা দেখা গেলেও সাদা ফুলের দিকে তাকালে অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। মনের মধ্যে একটা ভাল লাগার অনুভূতি জাগে।

অঞ্চলভেদে এই গাছের ফুল ভাইটা ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, বনজুঁই ফুল, ঘণ্টাকর্ণ হলেও মতলব উত্তরে ভাঁট ফুল নামেই পরিচিত। চৈত্র মাসে এই ফুল ফোঁটে বলে একে চৈত্রের ফুলও বলা হয়।

উপজেলার বেড়ীবাঁধের রাস্তার বিভিন্ন দুই পাশে ভাঁট ফুলের সমারোহ দেখলে মনে হবে প্রকৃতি যেন অপরূপ সাজে সেজেছে। এছাড়া গ্রাম বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চার পাশের বাগানগুলোতে ভাঁট ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ।

চলাচলকারী ফুল প্রেমিরা দেখে মুগ্ধ হন। বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ফুল ফোঁটে। এই ফুল ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে দেখা যায়। বিশেষ করে রাস্তার দু’পাশ, পরিত্যক্ত মাঠ, বন কিংবা জলাশয়ের পাশে ভাঁট ফুলের ঝোঁপ চোখে পড়ে। এর বৈজ্ঞানিক নাম, ক্লেরোডেনড্রাম ভিসকোসাম। ইংরেজি নাম হিল গেন্টারি বোয়ার ফ্লাওয়ার।

জানা গেছে এই ভাঁটফুলের আদি নিবাস ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অঞ্চলে। তবে যতদিন যাচ্ছে ততই হারিয়ে যাচ্ছে ভাঁটফুল। আগে সব খানেই এ প্রজাতির ফুলের বিস্তার ছিল। এখন বেশ দুর্লভ। গ্রামে কমেছে, শহরে তেমন চোখে পড়ে না। কিন্তু ফুলপ্রেমীরা খুঁজলে নিরাশ হবেন না।

ফুলপ্রেমি ও নাউরী আহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক একেএম তাজুল ইসলাম জানান, আগে যেখানে সেখানে ভাঁটগাছের দেখা মিলতো। আগের মানুষ এটি ঔষধি গাছ হিসাবে চিনতো। গাছের ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে। প্রতিদিন ভাঁটগাছের পাতার রস খেতো। ভাঁট গাছের পাতার রস খুবই উপকারী। বিশেষ করে গ্র্যাস্ট্রিক ও ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য উপকার বেশি। এখনো পুরাতন মানুষজন বাড়ীর কাছে না থাকলে দুর-দুরান্তর থেকে ভাঁটগাছের পাতা সংগ্রহ সকালে খালি পেটে ঔষধ হিসাবে সেবন করে। তিনি আরও জানান ভাঁট গাছগুলো সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। পাতা ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা হয়।

আরো পড়ুন  ফরিদগঞ্জে আধুনিক কৃষি যন্ত্রের আধিপত্যের ফলে বিলুপ্ত প্রায় লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ | Rknews71

তিনি আরও বলেন, ভাঁটগাছের পাতাগুলো খসখসে হলেও দেখতে কিছুটা পানপাতার মতো। ডালের শীর্ষে পুষ্পদন্ডে ফুল ফোঁটে। পাপড়ির রং সাদা এবং এতে বেগুনি রঙের মিশ্রণও আছে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম অবধি ভাঁটগাছের ফুল ফোঁটে। এই ফুলের রয়েছে মিষ্টি সৌরভ। রাতে বেশ সুঘ্রাণ ছড়ায় এই ফুল। প্রকৃতি প্রেমিরা যেভাবে ফুলের সুভাষ নেন। তেমনি ভাবে এ ফুল ফোঁটার পর মৌমাছিরা ভাঁট ফুলের মধু সংগ্রহ করে। ফুল গাছটি ভাঁট বলে পরিচিত হলেও স্থানভেদে এবং ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে এর ভিন্ন ভিন্ন নামও রয়েছে বলে জানান তিনি।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক সফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঁট ফুলে আছে অনেক উপকারিতা রয়েছে । বিষাক্ত কিছু কামড় দিলে ফুলের রস ক্ষত স্থানে দিলে দ্রুত সেরে যায়। অনেকে কৃমি দূর করার জন্য এ ফুলের রস খেয়ে থাকেন। চর্ম রোগে নিয়মিত ফুলের রস ক্ষত স্থানে মালিশ করলে দ্রুত সেরে উঠে। গরু – ছাগলের গায়ে উকুন হলে ভাট গাছের পাতা বেটে দিলে উকুন মরে যায়। কিন্তু আগের লোকজন ভাঁট ফুলের ভেষজ ঔষধিগুণ জেনে এসব চিকিৎসা করত। বর্তমান প্রজন্ম এ গাছের গুনাগুণ সম্পর্কে জানে না। তাই এ উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা জরুরি।

সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার বলেন, ভাঁট গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। পাতা দেখতে কিছুটা পান পাতার আকৃতির ও খসখসে। ডালের শীর্ষে একের পর এক ফুল ফোটে। পাপড়ির রঙ সাদা এবং পুষ্পমঞ্জরির মাঝে কলির অগ্র ভাগের রঙ বেগুনি। রাতে বেশ সৌরভ ছড়ায়, মনকে করে সুভাষিত।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ 
রাজাপুরা আরেফিয়া মাদরাসা ও এতিম খানার জায়গা দখলের চেষ্টা
বিএনপি’র সমাবেশে রেজাউল করিমের আস্থাভাজন’শাহাদাত প্রধানের নেতৃত্বে নজরকাড়া শোডাউন
নারায়ণগঞ্জের স্কুলগুলোতে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন ডিসি জাহিদুল ইসলাম
হাজীগঞ্জে বড় ভাইয়ের আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু
চাঁদপুর-২ থেকে বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্ত ক্যাটাগরিতে দাওয়াত পেলেন তানভীর হুদা

আরও খবর

error: Content is protected !!