ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীব

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গরম আসার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ আকারে বেড়েছে মশার বিস্তার। এরইমধ্যে হচ্ছে বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে দিনরাতে মশার কামড়ে নাজেহাল হাজীগঞ্জবাসী। রাতে তো বটেই,দিনের বেলায়ও অফিস,দোকান,বাসাবাড়িতে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ছে কয়েকগুণ।
নিয়মিত ড্রেন ও জলাশয়গুলো পরিষ্কার না করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। প্রতিবছর মশক নিধনে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হলেও চলতি বছরে তেমন ভাবে মশা মারার কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
পৌরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথেই মশার উপদ্রব ব্যাপকভাবে বেড়েছ। এতে মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। কয়েল, স্প্রে বা মশারি টাঙ্গিয়েও মশার উৎপাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। কেউই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। মশার উপদ্রব বাড়লেও মশা নিধনে পৌরসভা কার্যকরী কোনো ভূমিকা পালন করছেন না। এরই মধ্যে বর্ষাকাল ঘিরে আতঙ্কে আছেন বাসিন্দারা। মশক নিধনে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এডিস মশা বিস্তার লাভের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
পৌরসভা সূত্র জানায়,প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে।হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় বছরে এক থেকে দুইবার ফগার মেশিন নিয়ে মশা নিধনের ব্যবস্থা করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে মশা নিধনে ফগার মেশিনে দিয়ে ওষুধ দেওয়া হবে। তবে এবছর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগ এখনও সব ওয়ার্ডে কার্যক্রম তেমন ভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। একারণে মশার উৎপাত বেড়েছে।
পৌর শহরের আব্দুল কাদের শেখ বলেন, বাড়িতে ও এলাকায় এত মশার উপদ্রবের কারণে সন্ধ্যার পর কোথাও বসা যায় না। কয়েল জ্বালিয়েও মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।
রান্ধুনীমুড়া এলাকার শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন বলেন, সারাদিন মশার উপদ্রব থাকলেও সন্ধ্যার পরপরই এই উৎপাত ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ফলে সন্ধ্যায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে বা স্প্রে ছিটিয়ে পড়তে বসতে হচ্ছে। এমনকি মশার উৎপাতে নাজেহাল হয়ে মশারি টাঙ্গিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। অনেকই মশার কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ী সুৃমন হোসেন বলেন, ড্রেন, ডোবা, নালা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। গ্রীস্মকাল আসার আগে থেকে যদি পদপেক্ষ নিত, তাহলে মশার উপদ্রব এতো হতো না।
হাজীগঞ্জ বাজারের বাস ষ্ট্যান্ডের চা বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন,মশার উপদ্রব এত বেশি যে, চা খেতে খরিদ্দার আসলে বেশিক্ষণ কেউ বসতে পারে না।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) মাহবুবুর রশীদ বলেন, মশার প্রজনন মৌসুমে মশা নিধনে ফগার মেশিনে ওষুধ দেওয়া হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সারা বছরই নালা-নর্দমা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চলে। কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে মশা নিধনে ফগার মেশিনে দিয়ে ওষুধ দেওয়া হবে।
হাজীগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুর আজম বীন আখতার বলেন,বছরব্যাপী মশা নিধনের যে কার্যক্রম তা চলমান রয়েছে। ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম শুরুর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুশান্ত কুমার দাস জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত মশা বংশ বিস্তার ঘটায়। এসময় মশার কামড়ে অনেকেই অ্যানোফিলিস, ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। বর্ষায় এডিস মশার বিস্তার ঘটে। যা ভয়াবহ। এজন্য মশারি ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীব

আপডেট : ০৫:০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গরম আসার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ আকারে বেড়েছে মশার বিস্তার। এরইমধ্যে হচ্ছে বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে দিনরাতে মশার কামড়ে নাজেহাল হাজীগঞ্জবাসী। রাতে তো বটেই,দিনের বেলায়ও অফিস,দোকান,বাসাবাড়িতে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ছে কয়েকগুণ।
নিয়মিত ড্রেন ও জলাশয়গুলো পরিষ্কার না করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। প্রতিবছর মশক নিধনে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হলেও চলতি বছরে তেমন ভাবে মশা মারার কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
পৌরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথেই মশার উপদ্রব ব্যাপকভাবে বেড়েছ। এতে মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। কয়েল, স্প্রে বা মশারি টাঙ্গিয়েও মশার উৎপাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। কেউই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। মশার উপদ্রব বাড়লেও মশা নিধনে পৌরসভা কার্যকরী কোনো ভূমিকা পালন করছেন না। এরই মধ্যে বর্ষাকাল ঘিরে আতঙ্কে আছেন বাসিন্দারা। মশক নিধনে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এডিস মশা বিস্তার লাভের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
পৌরসভা সূত্র জানায়,প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে।হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় বছরে এক থেকে দুইবার ফগার মেশিন নিয়ে মশা নিধনের ব্যবস্থা করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে মশা নিধনে ফগার মেশিনে দিয়ে ওষুধ দেওয়া হবে। তবে এবছর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগ এখনও সব ওয়ার্ডে কার্যক্রম তেমন ভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। একারণে মশার উৎপাত বেড়েছে।
পৌর শহরের আব্দুল কাদের শেখ বলেন, বাড়িতে ও এলাকায় এত মশার উপদ্রবের কারণে সন্ধ্যার পর কোথাও বসা যায় না। কয়েল জ্বালিয়েও মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।
রান্ধুনীমুড়া এলাকার শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন বলেন, সারাদিন মশার উপদ্রব থাকলেও সন্ধ্যার পরপরই এই উৎপাত ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ফলে সন্ধ্যায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে বা স্প্রে ছিটিয়ে পড়তে বসতে হচ্ছে। এমনকি মশার উৎপাতে নাজেহাল হয়ে মশারি টাঙ্গিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। অনেকই মশার কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ী সুৃমন হোসেন বলেন, ড্রেন, ডোবা, নালা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। গ্রীস্মকাল আসার আগে থেকে যদি পদপেক্ষ নিত, তাহলে মশার উপদ্রব এতো হতো না।
হাজীগঞ্জ বাজারের বাস ষ্ট্যান্ডের চা বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন,মশার উপদ্রব এত বেশি যে, চা খেতে খরিদ্দার আসলে বেশিক্ষণ কেউ বসতে পারে না।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) মাহবুবুর রশীদ বলেন, মশার প্রজনন মৌসুমে মশা নিধনে ফগার মেশিনে ওষুধ দেওয়া হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সারা বছরই নালা-নর্দমা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চলে। কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে মশা নিধনে ফগার মেশিনে দিয়ে ওষুধ দেওয়া হবে।
হাজীগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুর আজম বীন আখতার বলেন,বছরব্যাপী মশা নিধনের যে কার্যক্রম তা চলমান রয়েছে। ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম শুরুর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুশান্ত কুমার দাস জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত মশা বংশ বিস্তার ঘটায়। এসময় মশার কামড়ে অনেকেই অ্যানোফিলিস, ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। বর্ষায় এডিস মশার বিস্তার ঘটে। যা ভয়াবহ। এজন্য মশারি ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকা প্রয়োজন।