ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোন দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা মৌলিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • 230

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। গতকাল বুধবার (২১ মে) সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশে সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি কঠোর সংশোধনী ব্যবহার করে সরকার আওয়ামী লীগের ওপর “অস্থায়ী” নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আওতায় দলটির সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারণা, প্রকাশনা, মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ মন্তব্য করে, “গত ১৫ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের আগ পর্যন্ত দলটির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, যা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। এর ফলে কার্যত দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

সংস্থাটির মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা এবং ভোটারদের অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত হানে। বিশেষ করে এমন একটি দল, যেটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে থেকেই সক্রিয় এবং যার রয়েছে বিস্তৃত গণভিত্তি।

এইচআরডব্লিউ-এর ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন,
“অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ ও যথাযথ বিচার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও সংগঠন নিষিদ্ধ করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

এছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকার ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে এমন বিধান চালু করেছে, যেখানে ট্রাইব্যুনাল এখন রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও সংগঠন বিলুপ্ত করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। “সংগঠন” শব্দটি এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার আওতায় রাজনৈতিক দল, সহযোগী গোষ্ঠী, এমনকি দলটির সমর্থনে কথা বলা ব্যক্তি পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, “এই ধরনের আইন ও পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে দুর্বল করে তুলতে পারে।”

আন্তর্জাতিক মহল এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

https://www.hrw.org/news/2025/05/21/bangladesh-review-laws-and-protect-human-rights-standards

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

কোন দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা মৌলিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

আপডেট : ১১:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। গতকাল বুধবার (২১ মে) সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশে সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি কঠোর সংশোধনী ব্যবহার করে সরকার আওয়ামী লীগের ওপর “অস্থায়ী” নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আওতায় দলটির সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারণা, প্রকাশনা, মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ মন্তব্য করে, “গত ১৫ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের আগ পর্যন্ত দলটির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, যা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। এর ফলে কার্যত দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

সংস্থাটির মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা এবং ভোটারদের অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত হানে। বিশেষ করে এমন একটি দল, যেটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে থেকেই সক্রিয় এবং যার রয়েছে বিস্তৃত গণভিত্তি।

এইচআরডব্লিউ-এর ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন,
“অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ ও যথাযথ বিচার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও সংগঠন নিষিদ্ধ করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

এছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকার ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে এমন বিধান চালু করেছে, যেখানে ট্রাইব্যুনাল এখন রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও সংগঠন বিলুপ্ত করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। “সংগঠন” শব্দটি এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার আওতায় রাজনৈতিক দল, সহযোগী গোষ্ঠী, এমনকি দলটির সমর্থনে কথা বলা ব্যক্তি পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, “এই ধরনের আইন ও পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে দুর্বল করে তুলতে পারে।”

আন্তর্জাতিক মহল এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

https://www.hrw.org/news/2025/05/21/bangladesh-review-laws-and-protect-human-rights-standards