ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেংগারচর পৌরভবন পানিবন্দি নাগরিক সেবা বিঘ্নিত

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও সামান্য বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর ভবন। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক ভবনটির এমন করুণ চিত্র।  একদিকে যেমন নাগরিক সেবা ব্যাহত করছে, অন্যদিকে এটি পরিকল্পনাহীন নগর ব্যবস্থাপনার নগ্ন প্রকাশ ঘটাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে ২০২৫) সকালে পৌর ভবনের সামনের অংশে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে প্রবেশপথ থেকে শুরু করে অফিস কক্ষ পর্যন্ত পুরো নিচতলা পানিতে তলিয়ে আছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যন্ত ভিজে প্যান্টে অফিস করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলেই এই জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করে। এতে জন্ম নিচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণে সমস্যা এবং নাগরিক সেবায় স্থবিরতা।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ছেংগারচর পৌরসভাটি প্রথমে (গ) শ্রেণির পৌরসভা ছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট (খ) শ্রেণি এবং ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি (ক) শ্রেণিতে উন্নীত হয়।
বর্তমানে পৌরসভার আয়তন ৩৫.৩৫ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৭৪,৫৬৫ জন।
স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, এই ভবনের এমন দশা হলে বুঝে নিতে হবে পুরো পৌরসভার অবস্থা কেমন। প্রতি বছর একই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে।
প্রশাসনের দৃষ্টিগোচরে এনে বিল্লাল হোসেন বলেন, এটি আর শুধু একটি স্থাপনার সমস্যা নয়, এটি জনস্বার্থের প্রশ্ন। পৌর নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও সচল সেবাকেন্দ্র নিশ্চিত করতে দ্রুত ভিত্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

ছেংগারচর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুসুম মনি বলেন, ভবনটির নিচু অবস্থান এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা ইতিমধ্যেই সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ নিচ্ছি। ভবনের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ নতুন ড্রেনেজ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আগামী বাজেটে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ছেংগারচর পৌরভবন পানিবন্দি নাগরিক সেবা বিঘ্নিত

আপডেট : ০৮:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও সামান্য বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর ভবন। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক ভবনটির এমন করুণ চিত্র।  একদিকে যেমন নাগরিক সেবা ব্যাহত করছে, অন্যদিকে এটি পরিকল্পনাহীন নগর ব্যবস্থাপনার নগ্ন প্রকাশ ঘটাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে ২০২৫) সকালে পৌর ভবনের সামনের অংশে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে প্রবেশপথ থেকে শুরু করে অফিস কক্ষ পর্যন্ত পুরো নিচতলা পানিতে তলিয়ে আছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যন্ত ভিজে প্যান্টে অফিস করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলেই এই জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করে। এতে জন্ম নিচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণে সমস্যা এবং নাগরিক সেবায় স্থবিরতা।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ছেংগারচর পৌরসভাটি প্রথমে (গ) শ্রেণির পৌরসভা ছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট (খ) শ্রেণি এবং ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি (ক) শ্রেণিতে উন্নীত হয়।
বর্তমানে পৌরসভার আয়তন ৩৫.৩৫ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৭৪,৫৬৫ জন।
স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, এই ভবনের এমন দশা হলে বুঝে নিতে হবে পুরো পৌরসভার অবস্থা কেমন। প্রতি বছর একই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে।
প্রশাসনের দৃষ্টিগোচরে এনে বিল্লাল হোসেন বলেন, এটি আর শুধু একটি স্থাপনার সমস্যা নয়, এটি জনস্বার্থের প্রশ্ন। পৌর নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও সচল সেবাকেন্দ্র নিশ্চিত করতে দ্রুত ভিত্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

ছেংগারচর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুসুম মনি বলেন, ভবনটির নিচু অবস্থান এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা ইতিমধ্যেই সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ নিচ্ছি। ভবনের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ নতুন ড্রেনেজ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আগামী বাজেটে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে।