চাঁদপুর জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হাজীগঞ্জ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান যানজট সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে মুখরিত থাকলেও, পরিকল্পনার অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে এটি আজ রূপ নিয়েছে স্থায়ী যানজটের দুঃস্বপ্নে।
সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে বসা হকার, ছোট যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল এবং বিকল্প সড়কের অভাবের কারণে যানজট যেন একটি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার এলাকায় গাড়িগুলো চলে ধীরগতিতে, অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। এর ফলে সময়ের অপচয়, শারীরিক দুর্ভোগ এবং ব্যবসায়িক ক্ষতিও হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
যানজট নিরসনে অতীতে অনেকবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, এমনকি সাবেক এমপি মরহুম এম.এ মতিন ও মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মজুমদারসহ অনেকেই এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। হকার উচ্ছেদ করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পুনরায় ফিরে আসে, যেন প্রশাসনের সঙ্গে একধরনের ‘চোর-পুলিশ’ খেলা চলতে থাকে।
সম্প্রতি চাঁদপুর জেলার নতুন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যানজট সমস্যা নিরসনে উদ্যোগী হন। তাঁর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজীগঞ্জ বাজারে রোড ডিভাইডার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এতে করে যান চলাচলে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।
তবে এই রোড ডিভাইডার নিয়েও রয়েছে নানা মতবিরোধ। বিশেষ করে হাজীগঞ্জ পূর্ববাজারের হলুদ পট্টির ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, পুরোপুরি ডিভাইডার বসালে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের মতে, পাইকারি আড়তে মালামাল আনা-নেওয়ার পথ সংকুচিত হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে। সচেতন মহলের মতে, গলির মুখে পর্যাপ্ত খোলামেলা পথ রেখে ডিভাইডার স্থাপন করলেই সমাধান আসতে পারে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, যানজট নিরসনে ডিভাইডার যেমন একটি কার্যকর উদ্যোগ, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য বাইপাস সড়ক বা ফ্লাইওভার নির্মাণের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে বিকল্প সড়ক ও ওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য একাধিকবার প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও তা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
যানজট একটি দৈনন্দিন দুর্ভোগে পরিণত হলেও রোড ডিভাইডার স্থাপনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে—এমন আশা স্থানীয়দের। তবে এই উদ্যোগ যেন টেকসই হয়, সেজন্য প্রয়োজন প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা। ব্যবসায়ী ও পথচারীদের স্বার্থ রক্ষা করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে হাজীগঞ্জ বাজারকে একটি শৃঙ্খলিত ও যানজটমুক্ত বানানোই এখন সময়ের দাবি।




















