ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদুল আযহা সামনে রেখে মতলব উত্তরে জমে উঠেছে ১৯টি পশুর হাট

মতলব উত্তর উপজেলা জুড়ে এখন ঈদের আমেজ, আর এর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পশুর হাটগুলো। কোরবানির আনন্দের পাশাপাশি সচেতনতা ও ন্যায্যমূল্যে পশু বিক্রির প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন উপজেলার মানুষ।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মতলব উত্তর উপজেলায় জমে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৯টি পশুর হাট। এরমধ্যে ঐতিহ্যবাহী ছেংগারচর বাজার পশুর হাট এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে।

এ উপজেলার বিভিন্ন হাটে দেশি জাতের গরু, ছাগলসহ নানা জাতের কোরবানির পশু কেনাবেচা হচ্ছে। প্রতিটি হাটেই ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, পশুপ্রেমীদের সরব উপস্থিতি এবং নজরকাড়া বড় গরু এখন হাটের প্রধান আকর্ষণ।
মতলব উত্তরে জনপ্রিয় হাটগুলোর তালিকায় রয়েছে ছেংগারচর বাজার গে-হাট, কালীরবাজার, আমতলা গরুর বাজার, কালিপুর বাজার, বেলতলী বাজার সহ আরও অনেক ছোট-বড় অস্থায়ী হাট। শুক্রবার (২ জুন) বেলা ১২টা থেকে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ছেংগারচর বাজারে পশুর হাট। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সরগমে মুখর হয়ে উঠেছে বাজারটি।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হাটগুলোতে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে যেন জাল টাকা ও ওজন নিয়ে প্রতারণা না হয়, সেজন্য নজরদারি চলছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার গরুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতার চাপ বেশ ভালো। এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি গরু কেনাবেচা হচ্ছে।
ছেংগারচর বাজার হাটের ইজারাদারের পক্ষে বিল্লাল ফরাজি বলেন, এই হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু আসে। এবারও আমরা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করছি। দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয়। এবারের এই পশুর হাটটি ছেংগারচর পৌর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ষাটনল এলাকার ক্রেতা মো. সুলতান বলেন, আমি প্রতিবারই ছেংগারচর হাট থেকেই কোরবানির গরু কিনি। এবার গরুগুলোর স্বাস্থ্য ভালো, দামও তুলনামূলকভাবে ঠিক আছে। কয়েক জায়গা ঘুরে এখানেই পছন্দমতো গরু পেয়েছি।
একজন ক্রেতা আবদুল করিম বলেন, আমি কোরবানির গরু কিনতে এসেছি ছেংগারচর হাটে। এখানকার পশুগুলো ভালো, দামও অন্য জায়গার তুলনায় একটু কম।

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, আমাদের ভেটেরিনারি টিম প্রতিটি হাটে কাজ করছে। পশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা ও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে যাতে কোনো অসুস্থ পশু বিক্রি না হয়।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক ছেংগারচর বাজার মনিটরিং শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রতিটি হাট পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, জাল টাকা লেনদেন বা পশু চুরির ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পশু ক্রয় করতে পারেন, সেটি আমরা নিশ্চিত করছি।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসারসহ প্রয়োজনীয় ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ঈদুল আযহা সামনে রেখে মতলব উত্তরে জমে উঠেছে ১৯টি পশুর হাট

আপডেট : ০৮:৫২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

মতলব উত্তর উপজেলা জুড়ে এখন ঈদের আমেজ, আর এর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পশুর হাটগুলো। কোরবানির আনন্দের পাশাপাশি সচেতনতা ও ন্যায্যমূল্যে পশু বিক্রির প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন উপজেলার মানুষ।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মতলব উত্তর উপজেলায় জমে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৯টি পশুর হাট। এরমধ্যে ঐতিহ্যবাহী ছেংগারচর বাজার পশুর হাট এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে।

এ উপজেলার বিভিন্ন হাটে দেশি জাতের গরু, ছাগলসহ নানা জাতের কোরবানির পশু কেনাবেচা হচ্ছে। প্রতিটি হাটেই ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, পশুপ্রেমীদের সরব উপস্থিতি এবং নজরকাড়া বড় গরু এখন হাটের প্রধান আকর্ষণ।
মতলব উত্তরে জনপ্রিয় হাটগুলোর তালিকায় রয়েছে ছেংগারচর বাজার গে-হাট, কালীরবাজার, আমতলা গরুর বাজার, কালিপুর বাজার, বেলতলী বাজার সহ আরও অনেক ছোট-বড় অস্থায়ী হাট। শুক্রবার (২ জুন) বেলা ১২টা থেকে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ছেংগারচর বাজারে পশুর হাট। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সরগমে মুখর হয়ে উঠেছে বাজারটি।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হাটগুলোতে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে যেন জাল টাকা ও ওজন নিয়ে প্রতারণা না হয়, সেজন্য নজরদারি চলছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার গরুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতার চাপ বেশ ভালো। এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি গরু কেনাবেচা হচ্ছে।
ছেংগারচর বাজার হাটের ইজারাদারের পক্ষে বিল্লাল ফরাজি বলেন, এই হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু আসে। এবারও আমরা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করছি। দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয়। এবারের এই পশুর হাটটি ছেংগারচর পৌর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ষাটনল এলাকার ক্রেতা মো. সুলতান বলেন, আমি প্রতিবারই ছেংগারচর হাট থেকেই কোরবানির গরু কিনি। এবার গরুগুলোর স্বাস্থ্য ভালো, দামও তুলনামূলকভাবে ঠিক আছে। কয়েক জায়গা ঘুরে এখানেই পছন্দমতো গরু পেয়েছি।
একজন ক্রেতা আবদুল করিম বলেন, আমি কোরবানির গরু কিনতে এসেছি ছেংগারচর হাটে। এখানকার পশুগুলো ভালো, দামও অন্য জায়গার তুলনায় একটু কম।

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, আমাদের ভেটেরিনারি টিম প্রতিটি হাটে কাজ করছে। পশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা ও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে যাতে কোনো অসুস্থ পশু বিক্রি না হয়।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক ছেংগারচর বাজার মনিটরিং শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রতিটি হাট পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, জাল টাকা লেনদেন বা পশু চুরির ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পশু ক্রয় করতে পারেন, সেটি আমরা নিশ্চিত করছি।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসারসহ প্রয়োজনীয় ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।