দেশ যখন আগামী শনিবার (৭ জুন) ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তির প্রায় ৪০টি গ্রামে ইতোমধ্যে ঈদের খুশি ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ, এই এলাকার হাজারো মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার (৬ জুন) ঈদুল আজহা পালন করবে।
এই ব্যতিক্রমী ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফ। এখানকার অনুসারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ উদযাপন করে আসছেন প্রায় শত বছর ধরে। এ বছরের মতো এবারও সরকারি তারিখের একদিন আগেই তারা ঈদের আনন্দে মেতে উঠবে।
সাদ্রা দরবার শরীফের পীর আল্লামা যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী জানান, প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সকাল ৮টায় দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে, যেখানে তিনি নিজেই ইমামতি করবেন। ইতোমধ্যে ঈদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং এলাকাজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
ঐতিহ্যের পেছনে ইতিহাস
এই ঐতিহ্যের সূচনা ১৯২৮ সালে। রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় সরকারিভাবে নির্ধারিত তারিখ উপেক্ষা করে এ উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি সরকারি দায়িত্ব হারান। কিন্তু হাল ছাড়েননি। ফিরে এসে নিজ গ্রামে সাদ্রা দরবার ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই থেকেই চলে আসছে এই ব্যতিক্রমী ধারা।
যারা পালন করবেন আগাম ঈদ
ঈদ উদযাপনকারী গ্রামের তালিকায় রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, বলাখাল, মনিহার, বাসারা, অলিপুর, সমেশপুর; ফরিদগঞ্জের লক্ষ্মীপুর, গল্লাক, ভুলাচোঁ, কামতা; মতলবের মোহনপুর, কচুয়া, দশানী; আর শাহরাস্তির কিছু গ্রাম। প্রতি বছর এই সময় এলাকাগুলোতে সাজে আলোকসজ্জা, চলে পশু কোরবানির প্রস্তুতি আর বাড়িতে বাড়িতে রান্না হয় সুস্বাদু খাবার।
কেবল ঈদ নয়, এক আত্মিক বন্ধন
শুধু দিনপঞ্জিকার তারিখে নয়, এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের গভীর সংযোগ। চাঁদপুরের এই মানুষগুলো বছরের পর বছর ধরে সেই ঐতিহ্য লালন করে আসছেন, যা এখন আর শুধুই ঈদ নয়—একটি আত্মিক বন্ধন, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে যাচ্ছে।




















