যখন রাজধানীজুড়ে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আনন্দে মেতে উঠেছে নগরবাসী, তখন সেই আনন্দের পর্দার আড়ালে সতর্ক পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর হাজারো সদস্য। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন ও এর আগের-পরের সময়টিতে মহানগরের সর্বস্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব ঈদ আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা।
ঈদ উদযাপনের আনন্দ যখন সাধারণ মানুষের পরিবার ও স্বজনদের ঘিরে আবর্তিত, তখন পুলিশের অনেক সদস্যকে দিন কাটাতে হচ্ছে ডিউটির নির্ধারিত পোস্টে, ব্যারাকে কিংবা রাস্তায়, ট্রাফিক মোড়ে, ঈদগাহে অথবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সামনে। নগরবাসীর শান্তিপূর্ণ ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় ঈদ আনন্দ বলে জানিয়েছেন অনেকে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান, কোরবানির পশুর হাট, জনবহুল বিপণিবিতান, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রতিটি থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ ঈদের সময় অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্য বলেন,
“আমাদের ঈদ হচ্ছে রাস্তায়। তবে এতে কোনো কষ্ট নেই, বরং গর্ববোধ করি। নগরবাসী যখন নিরাপদে ঈদ উদযাপন করে, তখন বুঝি আমাদের দায়িত্ব সার্থক হয়েছে।”
ঈদ উপলক্ষে পুলিশের এই ত্যাগ ও সেবামূলক মানসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসিত হচ্ছে। অনেক নাগরিক পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন—তাঁদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও নিরবিচারে ঈদ উদযাপনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, “আমরা নাগরিকদের ঈদ আনন্দকে নিরাপদ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের এই আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
নগরবাসীর ঈদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যারা নিজেদের ব্যক্তিগত আনন্দকে পিছনে রেখে দায়িত্ব পালন করছেন—তাঁরা নিঃসন্দেহে ঈদের নীরব নায়ক।




















