ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতবর্ষের ঐতিহ্য: টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থায় কোরবানির মাংস পেল সহস্রাধিক পরিবার

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় এলাকায় শতবর্ষ ধরে পরিচালিত একটি অনন্য সামাজিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এবারের ঈদুল আজহায় সহস্রাধিক পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কোরবানির মাংস। “টোরাগড় আদর্শ কোরবানি সমাজ ব্যবস্থাপনা” নামে পরিচিত এই ব্যবস্থাটি ঈদের দিন (৭ জুন) প্রতিটি পরিবারে গড়ে প্রায় ৩ কেজি করে মাংস বিতরণ করে।
বৃটিশ আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী সমাজব্যবস্থা প্রতি বছর ঈদের দিন এমন সব পরিবারকে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেয়, যারা নিজেরা কোরবানি দিতে অক্ষম। যারা কোরবানি দেন, তারা একটি পশুর তিনভাগের একভাগ মাংস এবং ১১০০ টাকা সমাজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করেন। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কোরবানি সংক্রান্ত খরচ যেমন—জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটা ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
সমাজের নির্ধারিত কর্মীরা তালিকা অনুযায়ী  সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে সমবণ্টনের ভিত্তিতে মাংস বিতরণ করে থাকেন। বণ্টন প্রক্রিয়াটি ঈদের দিন বিকালের মধ্যেই সম্পন্ন হয়, যাতে প্রত্যেক পরিবার সময়মতো কোরবানির মাংস পায়। যেসব পরিবারে একাধিক বিবাহিত সদস্য থাকেন, তাদের প্রতিজন আলাদা আলাদা অংশ পান।
প্রচলনের শুরুতে দুটি সমাজ ছিল, তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে তিনটি পৃথক সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে “টোরাগড় আদর্শ কোরবানি সমাজ ব্যবস্থাপনা” সবচেয়ে সুসংগঠিত ও স্বীকৃত হিসেবে বিবেচিত।
সমাজের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন। কোরবানির আগের দিন থেকে শুরু করে ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলসভাবে তারা কাজ করে থাকেন যাতে সমাজের কেউ বঞ্চিত না হয়।
এই সমাজ ব্যবস্থার কার্যক্রমে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন বতু, শাহজাহান তালুকদার, আবুল হাসেম ভুইয়া, জামাল মিজি, দেলোয়ার মিজি, দেলোয়ার হোসেন , মান্নান মৃধা, শহিদ মৃধা, শহীদুল ইসলাম, শরীফ তালুকদার, সাজ্জাদ রশিদ ডেবিড, মনির খন্দকারসহ অনেকে।
ঐতিহাসিকভাবে ধারণা করা হয়, বৃটিশ শাসনামলে লোপ্তে আলী মিজি, আব্দুল হক মৃধা, আলী উল্যাহ মৃধা, সুলতান সর্দার, নূর খাঁ ও ইদ্রিস মজুমদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই সমাজ ব্যবস্থার সূচনা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি কোনো বিতর্ক ছাড়াই স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে।
টোরাগড়ের এই কোরবানি সমাজ ব্যবস্থা কেবল মাংস বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সম্প্রীতির বন্ধন, যা ধর্মীয় উৎসবকে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে উৎসবমুখর করে তোলে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

শতবর্ষের ঐতিহ্য: টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থায় কোরবানির মাংস পেল সহস্রাধিক পরিবার

আপডেট : ১২:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় এলাকায় শতবর্ষ ধরে পরিচালিত একটি অনন্য সামাজিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এবারের ঈদুল আজহায় সহস্রাধিক পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কোরবানির মাংস। “টোরাগড় আদর্শ কোরবানি সমাজ ব্যবস্থাপনা” নামে পরিচিত এই ব্যবস্থাটি ঈদের দিন (৭ জুন) প্রতিটি পরিবারে গড়ে প্রায় ৩ কেজি করে মাংস বিতরণ করে।
বৃটিশ আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী সমাজব্যবস্থা প্রতি বছর ঈদের দিন এমন সব পরিবারকে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেয়, যারা নিজেরা কোরবানি দিতে অক্ষম। যারা কোরবানি দেন, তারা একটি পশুর তিনভাগের একভাগ মাংস এবং ১১০০ টাকা সমাজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করেন। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কোরবানি সংক্রান্ত খরচ যেমন—জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটা ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
সমাজের নির্ধারিত কর্মীরা তালিকা অনুযায়ী  সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে সমবণ্টনের ভিত্তিতে মাংস বিতরণ করে থাকেন। বণ্টন প্রক্রিয়াটি ঈদের দিন বিকালের মধ্যেই সম্পন্ন হয়, যাতে প্রত্যেক পরিবার সময়মতো কোরবানির মাংস পায়। যেসব পরিবারে একাধিক বিবাহিত সদস্য থাকেন, তাদের প্রতিজন আলাদা আলাদা অংশ পান।
প্রচলনের শুরুতে দুটি সমাজ ছিল, তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে তিনটি পৃথক সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে “টোরাগড় আদর্শ কোরবানি সমাজ ব্যবস্থাপনা” সবচেয়ে সুসংগঠিত ও স্বীকৃত হিসেবে বিবেচিত।
সমাজের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন। কোরবানির আগের দিন থেকে শুরু করে ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলসভাবে তারা কাজ করে থাকেন যাতে সমাজের কেউ বঞ্চিত না হয়।
এই সমাজ ব্যবস্থার কার্যক্রমে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন বতু, শাহজাহান তালুকদার, আবুল হাসেম ভুইয়া, জামাল মিজি, দেলোয়ার মিজি, দেলোয়ার হোসেন , মান্নান মৃধা, শহিদ মৃধা, শহীদুল ইসলাম, শরীফ তালুকদার, সাজ্জাদ রশিদ ডেবিড, মনির খন্দকারসহ অনেকে।
ঐতিহাসিকভাবে ধারণা করা হয়, বৃটিশ শাসনামলে লোপ্তে আলী মিজি, আব্দুল হক মৃধা, আলী উল্যাহ মৃধা, সুলতান সর্দার, নূর খাঁ ও ইদ্রিস মজুমদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই সমাজ ব্যবস্থার সূচনা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি কোনো বিতর্ক ছাড়াই স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে।
টোরাগড়ের এই কোরবানি সমাজ ব্যবস্থা কেবল মাংস বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সম্প্রীতির বন্ধন, যা ধর্মীয় উৎসবকে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে উৎসবমুখর করে তোলে।