সারা দেশের মতো চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলাতেও শুরু হচ্ছে ২০২৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি), আলিম এবং সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় হাজীগঞ্জ থেকে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭টি মূল কেন্দ্র এবং একাধিক ভেন্যু কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নেয়া হয়েছে নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এইচএসসি (বিএম ও ভোকেশনাল) শাখার জন্য দুটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে—হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং হাজীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই দুটি কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট ভেন্যু কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ (বিএম শাখা), হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ (বিএম শাখা), বলাখাল জে. এন. উচ্চ বিদ্যালয় ও কারিগরি কলেজ এবং মুদাফফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই দুটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ১,৩০১ জন, যার মধ্যে একাদশ শ্রেণির ৬৪০ জন এবং দ্বাদশ শ্রেণির ৬৬১ জন।
এইচএসসি (সাধারণ) পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সাতটি কেন্দ্র হলো হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ, বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, ধড্ডা মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ, দেশগাঁও ডিগ্রি কলেজ এবং কাকৈরতলা জনতা কলেজ। এই কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩,০০৬ জন।
অন্যদিকে, আলিম পরীক্ষার জন্য হাজীগঞ্জে নির্ধারিত কেন্দ্র হলো হাজীগঞ্জ দারুল উলুম আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা। এই কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৩টি আলিম ও ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—বাকিলা, বেলচোঁ, নাওহাটা, নেছারাবাদ, রাজারগাঁও, সাদ্রা হামিদিয়া, কাকৈরতলা ও কাপাইকাপ ইসলামিয়া মাদ্রাসা। এই কেন্দ্র থেকে অংশ নিচ্ছে ৮৮২ জন পরীক্ষার্থী। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মোবাইল নম্বরও সংশ্লিষ্ট দফতরে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, আনসার ও প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “সবগুলো কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা, নকলমুক্ত পরিবেশ এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি কেন্দ্র মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।”
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরাও আশা প্রকাশ করেছেন, শিক্ষার্থীরা যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা দিয়ে সফল ফলাফল অর্জন করতে পারে।




















