চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসটি একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এখানে নিয়মিতভাবে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. ফজলুর রহমান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং হয়রানিমূলক আচরণের মাধ্যমে পুরো অফিসকে বিতর্কিত করে তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টোরাগড় গ্রামের বাসিন্দা সেলিম সর্দার অভিযোগ করেন, তার পিতা মৃত আইয়ুব আলী সর্দারের নামে কালচোঁ ও প্যারাপুর মৌজার ৭৪ শতাংশ জমি নামজারি (জমা খারিজ) করতে গিয়ে ফজলুর রহমান তার কাছ থেকে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ৪৩ হাজার টাকা আদায় করেন। অথচ সরকারি রশিদ অনুযায়ী নামজারির মূল ফি ছিল মাত্র ১ হাজার ১৫০ টাকা।
খতিয়ান হাতে পেয়ে সেলিম সর্দার দেখেন, ৭৪ শতাংশের স্থলে মাত্র ৪০ শতাংশ জমি নামজারি হয়েছে। বাকি ৩৪ শতাংশ জমির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ফজলুর রহমানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় তিনি হাজীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এছাড়া, পৌর এলাকার রান্ধুনীমুড়া গ্রামের দিনমজুর শুকুর আলম নামজারি ‘মিস কেস’-এর জন্য ২৫ হাজার টাকা ফজলুর রহমানকে প্রদান করলেও সেবা পেতে হয়রানির শিকার হন বলে জানান। পরে তিনি মৌখিকভাবে সহকারী কমিশনার ভূমিকে অভিযোগ করলে, তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।
জানা গেছে, অতীতেও রামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করে আনা হয়। তবে এখানেও দুর্নীতির মাত্রা কমেনি বরং বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ সেবা গ্রহীতাদের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, “আমার অফিসে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আমরা তা গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাই করি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।”




















