ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার সোনাতলায় গলায় ছুড়ি ধরে ব্যাটারিচালিত  অটোভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা আটক ২

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় যাত্রীবেশে ছিনতাই করতে এসে জনতার হাতে ধরা পড়েছেন দুই যুবক। তারা ব্যাটারিচালিত একটি অটোভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে চালকের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। ঘটনায় এক ছিনতাইকারী পালিয়ে গেলেও পুলিশ জানিয়েছে, তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৫ জুলাই (শনিবার) বিকেল ৫টার দিকে সোনাতলা উপজেলার মহিষাবাড়ি থেকে পুগলিয়া যাওয়ার রাস্তার মোড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাত্র ১৩ বছর বয়সী অটোচালক খোকন আলী, যিনি সোনাতলা পৌরসভার আগুনিয়াতাইড় (মাস্টারপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন দুপুরে খোকন আলী স্টেডিয়াম মাঠসংলগ্ন সড়কে অটোভ্যান নিয়ে যাত্রী খুঁজছিলেন। এ সময় তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি এসে কর্পূর বাজারে যাওয়ার কথা বলে তাকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় ভ্যান রিজার্ভ করে।

তারা চালককে নিয়ে ঘুরিয়ে বেড়ানোর একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে মহিষাবাড়ি মোড়ে পৌঁছায়। সেখানেই হঠাৎ করে এক ছিনতাইকারী খোকনের গলায় ছুরি ধরে এবং ভ্যানের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। খোকন দ্রুত চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘটনাস্থল থেকে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন—
মোঃ আপেল মুন্না (২০) — দক্ষিণ আটকড়িয়া গ্রাম, বালুয়া ইউনিয়ন। মোঃ শাহিন বেপারী (৩৫) — সুজাইতপুর গ্রাম, সদর ইউনিয়ন, পিতা: মৃত মুক্তা প্রামাণিক।

অন্যদিকে পালিয়ে যাওয়া ছিনতাইকারীর নাম জনি ইসলাম (২০), পিতা: মোঃ দিলদার আলী, গ্রাম: গবারপাড়া, বালুয়া ইউনিয়ন। অভিযোগে আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী চালক খোকনের বাবা মোঃ মহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় একটি  মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ০৬ (৬ জুলাই ২০২৫)
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিলাদুন নবী বলেন,
আটককৃতদের বিরুদ্ধে  মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের শনিবার দুপুরেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা গেছে। তারা দ্রুত এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ছোট বয়সী অটোচালকদের একা রাস্তায় পাঠানো নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বগুড়ার সোনাতলায় গলায় ছুড়ি ধরে ব্যাটারিচালিত  অটোভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা আটক ২

আপডেট : ১২:২৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় যাত্রীবেশে ছিনতাই করতে এসে জনতার হাতে ধরা পড়েছেন দুই যুবক। তারা ব্যাটারিচালিত একটি অটোভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে চালকের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। ঘটনায় এক ছিনতাইকারী পালিয়ে গেলেও পুলিশ জানিয়েছে, তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৫ জুলাই (শনিবার) বিকেল ৫টার দিকে সোনাতলা উপজেলার মহিষাবাড়ি থেকে পুগলিয়া যাওয়ার রাস্তার মোড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাত্র ১৩ বছর বয়সী অটোচালক খোকন আলী, যিনি সোনাতলা পৌরসভার আগুনিয়াতাইড় (মাস্টারপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন দুপুরে খোকন আলী স্টেডিয়াম মাঠসংলগ্ন সড়কে অটোভ্যান নিয়ে যাত্রী খুঁজছিলেন। এ সময় তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি এসে কর্পূর বাজারে যাওয়ার কথা বলে তাকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় ভ্যান রিজার্ভ করে।

তারা চালককে নিয়ে ঘুরিয়ে বেড়ানোর একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে মহিষাবাড়ি মোড়ে পৌঁছায়। সেখানেই হঠাৎ করে এক ছিনতাইকারী খোকনের গলায় ছুরি ধরে এবং ভ্যানের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। খোকন দ্রুত চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘটনাস্থল থেকে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন—
মোঃ আপেল মুন্না (২০) — দক্ষিণ আটকড়িয়া গ্রাম, বালুয়া ইউনিয়ন। মোঃ শাহিন বেপারী (৩৫) — সুজাইতপুর গ্রাম, সদর ইউনিয়ন, পিতা: মৃত মুক্তা প্রামাণিক।

অন্যদিকে পালিয়ে যাওয়া ছিনতাইকারীর নাম জনি ইসলাম (২০), পিতা: মোঃ দিলদার আলী, গ্রাম: গবারপাড়া, বালুয়া ইউনিয়ন। অভিযোগে আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী চালক খোকনের বাবা মোঃ মহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় একটি  মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ০৬ (৬ জুলাই ২০২৫)
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিলাদুন নবী বলেন,
আটককৃতদের বিরুদ্ধে  মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের শনিবার দুপুরেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা গেছে। তারা দ্রুত এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ছোট বয়সী অটোচালকদের একা রাস্তায় পাঠানো নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার।