ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ! 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষক মোঃ শাহেদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের মজুমদার বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় অন্যান্য ছাত্রীদের চলে যেতে বললেও এক ছাত্রীকে “কথা আছে” বলে কক্ষে রেখে দেন শিক্ষক শাহেদ। এরপর দরজা বন্ধ করে ওই ছাত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী। ছাত্রীটি ভয়ে চিৎকার দিলে তিনি দরজা খুলে বেরিয়ে যান।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক শাহেদ আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে একটি সূত্র জানায়, তাকে একাধিকবার হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিচে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত বলেন, “মেয়েটির মা আমাকে বিষয়টি জানান। আমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। এরপর একটি শিক্ষক বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই যৌন নিপীড়নের বিষয়টি স্বীকার করেন। আমাদের কাছে সেই স্বীকারোক্তির অডিও রেকর্ডও রয়েছে।”

৫ জুলাই (শনিবার) মাদ্রাসার শিক্ষকরা জরুরি বৈঠকে বসেন। শিক্ষক প্রতিনিধি আবু তাহের বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা আলোচনা করি। বৈঠকে শিক্ষক শাহেদ হোসেন নিজেই দোষ স্বীকার করেন।”

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আবুল খায়ের (আবু বকর) বলেন, “ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছেন, তবে এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।”

ঘটনার প্রতিবাদে আজ (৭ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি এবং মাদ্রাসা সুপারকে বলেছি যেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা গুরুত্বসহকারে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “ ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। মাদ্রাসার সভাপতি আমাকে জানিয়েছে আমি তাকে বলেছি আপনি বিষয়টা খোঁজ নেন। আমার কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ! 

আপডেট : ০৮:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষক মোঃ শাহেদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের মজুমদার বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় অন্যান্য ছাত্রীদের চলে যেতে বললেও এক ছাত্রীকে “কথা আছে” বলে কক্ষে রেখে দেন শিক্ষক শাহেদ। এরপর দরজা বন্ধ করে ওই ছাত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী। ছাত্রীটি ভয়ে চিৎকার দিলে তিনি দরজা খুলে বেরিয়ে যান।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক শাহেদ আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে একটি সূত্র জানায়, তাকে একাধিকবার হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিচে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত বলেন, “মেয়েটির মা আমাকে বিষয়টি জানান। আমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। এরপর একটি শিক্ষক বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই যৌন নিপীড়নের বিষয়টি স্বীকার করেন। আমাদের কাছে সেই স্বীকারোক্তির অডিও রেকর্ডও রয়েছে।”

৫ জুলাই (শনিবার) মাদ্রাসার শিক্ষকরা জরুরি বৈঠকে বসেন। শিক্ষক প্রতিনিধি আবু তাহের বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা আলোচনা করি। বৈঠকে শিক্ষক শাহেদ হোসেন নিজেই দোষ স্বীকার করেন।”

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আবুল খায়ের (আবু বকর) বলেন, “ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছেন, তবে এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।”

ঘটনার প্রতিবাদে আজ (৭ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি এবং মাদ্রাসা সুপারকে বলেছি যেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা গুরুত্বসহকারে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “ ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। মাদ্রাসার সভাপতি আমাকে জানিয়েছে আমি তাকে বলেছি আপনি বিষয়টা খোঁজ নেন। আমার কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”