ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে দায়সারা আয়োজনে জাতীয় ফল মেলা

Oplus_131072

“দেশী ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই”—এই শ্লোগানে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জাতীয় ফল মেলা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হলেও, পুরো আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ দায়সারা ও লোকদেখানো।
উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

তবে মেলাটির মূল উদ্দেশ্য—কৃষকদের সম্পৃক্ত করা ও দেশীয় ফলের চাষে আগ্রহ তৈরি তা ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বাস্তবে কোনো কৃষকই উপস্থিত ছিলেন না, এমনকি প্রদর্শনীও ছিল মাত্র একটি ছোট স্টল নিয়ে।

বাস্তবতা আর বক্তব্যে আকাশ-পাতাল ফারাক অথচ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, ১৫ থেকে ২০ জন কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু ঘুরে দেখা গেছে, উপস্থিত ছিলেন শুধু অফিসের স্টাফ ও কিছু আমন্ত্রিত অতিথি। কৃষকদের দেখা মেলেনি, আর যারা এসেছেন—তাদের অনেকেই ফল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

উপজেলার মতো জনবহুল এলাকায় এমন দায়সারা আয়োজনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই কাগজে প্রোগ্রাম পূরণ?
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এমন আয়োজনের বিষয়ে আগে থেকে কোনো প্রচার হয়নি, আমন্ত্রণ জানানো হয়নি কৃষক প্রতিনিধিদের, এমনকি ফল চাষের বিষয়ে কোনো কার্যকরী আলোচনা বা প্রদর্শনীও ছিল না।

স্থানীয় এক কৃষক আব্দুর রহমান জানান, ফল মেলার কথা আমরা জানি না। মেলা হবে, না মিটিং হবে—তা বুঝতে না পেরে কেউই যাইনি। দেখলাম পরে ছবি ফেসবুকে!

এ রকম অব্যবস্থাপনার ফলে জাতীয় ফল মেলার মূল উদ্দেশ্যটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। অনেকে বলছেন, শুধু ব্যানার লাগিয়ে ছবি তোলাই যদি মেলার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এটি কৃষি সম্প্রসারণের বদলে লোকদেখানো কর্মকাণ্ডে পরিণত হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

মতলব উত্তরে দায়সারা আয়োজনে জাতীয় ফল মেলা

আপডেট : ০৮:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

“দেশী ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই”—এই শ্লোগানে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জাতীয় ফল মেলা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হলেও, পুরো আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ দায়সারা ও লোকদেখানো।
উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

তবে মেলাটির মূল উদ্দেশ্য—কৃষকদের সম্পৃক্ত করা ও দেশীয় ফলের চাষে আগ্রহ তৈরি তা ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বাস্তবে কোনো কৃষকই উপস্থিত ছিলেন না, এমনকি প্রদর্শনীও ছিল মাত্র একটি ছোট স্টল নিয়ে।

বাস্তবতা আর বক্তব্যে আকাশ-পাতাল ফারাক অথচ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, ১৫ থেকে ২০ জন কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু ঘুরে দেখা গেছে, উপস্থিত ছিলেন শুধু অফিসের স্টাফ ও কিছু আমন্ত্রিত অতিথি। কৃষকদের দেখা মেলেনি, আর যারা এসেছেন—তাদের অনেকেই ফল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

উপজেলার মতো জনবহুল এলাকায় এমন দায়সারা আয়োজনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই কাগজে প্রোগ্রাম পূরণ?
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এমন আয়োজনের বিষয়ে আগে থেকে কোনো প্রচার হয়নি, আমন্ত্রণ জানানো হয়নি কৃষক প্রতিনিধিদের, এমনকি ফল চাষের বিষয়ে কোনো কার্যকরী আলোচনা বা প্রদর্শনীও ছিল না।

স্থানীয় এক কৃষক আব্দুর রহমান জানান, ফল মেলার কথা আমরা জানি না। মেলা হবে, না মিটিং হবে—তা বুঝতে না পেরে কেউই যাইনি। দেখলাম পরে ছবি ফেসবুকে!

এ রকম অব্যবস্থাপনার ফলে জাতীয় ফল মেলার মূল উদ্দেশ্যটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। অনেকে বলছেন, শুধু ব্যানার লাগিয়ে ছবি তোলাই যদি মেলার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এটি কৃষি সম্প্রসারণের বদলে লোকদেখানো কর্মকাণ্ডে পরিণত হবে।