চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নং শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের ভাটেঁগাঁও গ্রামে গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে এক হিন্দু নারীকে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত নারীর গলা, ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে মৃত কৃষ্ণপদ চক্রবর্তীর স্ত্রী কাজল রানী চক্রবর্তী (৫৫) নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের সিঁধ কেটে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড় ও গলায় বারবার কোপ মারে।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনেরা প্রথমে তাকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ভিকটিমের ছেলে দীপ চক্রবর্তী বলেন, “মা হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম সাপে কামড়েছে। পরে দেখি গলা ও ঘাড় থেকে রক্ত বের হচ্ছে। আমরা বুঝি কেউ তাকে জবাই করার চেষ্টা করেছে। ঘরের এক পাশে সিঁধ কাটা অবস্থাও দেখতে পাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কোনো চুরি বা ডাকাতির ঘটনা নয়। কারণ ঘর থেকে কোনো সম্পদ বা মালামাল খোয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহাগ পাটোয়ারী বলেন, “ঘরে ঢুকে কেবল একজন নারীকে টার্গেট করে এমন নির্মম হামলা খুবই দুঃখজনক। এলাকাবাসী আতঙ্কিত। আমি পরিবারটির পাশে আছি এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—অবিলম্বে এই হামলার নেপথ্যের কারণ উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেফতার করা হোক।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা। অনেকেই বলছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও ভয়াবহ বার্তা বহন করছে যা সামাজিক স্থিতি ও সম্প্রদায়গত সহাবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছি। প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং আশা করছি খুব শিগগিরই দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”




















