ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিন মেমোরিয়ালে গণিতে গণহারে ফেল: শিক্ষকের দাবি, ‘প্রশ্ন ছিল এলোমেলো!’

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • 125

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফলাফল উপহার দিয়েছে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয় মোট ১২৭ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে মাত্র ৬৮ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ৫৯ জন। পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫৬.১৯ শতাংশ। তবে সবচেয়ে হতাশার খবর—একজন শিক্ষার্থীও A+ পায়নি।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিদ্যালয়জুড়ে শুরু হয়েছে চরম অস্বস্তি ও সমালোচনার ঝড়। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে—এই ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংকট, দায়িত্বহীনতা এবং শিক্ষকদের উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়—A পেয়েছে ১২ জন, A- পেয়েছে ২২ জন, B পেয়েছে ১০ জন, C পেয়েছে ১১ জন এবং D গ্রেড পেয়েছে ৪ জন শিক্ষার্থী। মান বিচারে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নিচু গ্রেডে পাস করেছে, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে—স্কুলটিতে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্বময় দুটি গ্রুপ সক্রিয়, একটি গ্রুপ পাঠদানে আন্তরিক হলেও অন্য দলটি জড়িয়ে আছে প্রাইভেট টিউশন বাণিজ্যে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসে সময় না দিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহী। তাদের মধ্যে নাম উঠে এসেছে গণিত বিষয়ের শিক্ষক কামরুল আহসান পাটোয়ারী ও আওলাদ হোসেন এর।

গণিতেই এবার সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে শিক্ষার্থীরা। আর এই বিষয়েই ক্লাস করান কামরুল আহসান স্যার, যিনি নিজেই দাবি করেন—“আমি তো বোর্ডের গণিত বিষয়ের হেড এক্সামিনার। প্রশ্নটা একটু এলোমেলো ছিল। তাই শিক্ষার্থীরা নার্ভাস হয়ে গেছে। সব জায়গাতেই তো গণিতে ফল খারাপ হয়েছে। আমি মোটামুটি সন্তুষ্ট রেজাল্ট নিয়ে।”

তাঁর এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। তাদের প্রশ্ন—যেখানে একজন শিক্ষক নিজেকে বোর্ডের হেড এক্সামিনার দাবি করেন, সেখানে তাঁর স্কুলেই গণিতে এত বড় ভরাডুবি কেন? প্রশ্ন কঠিন হলেও ক্লাসে তো প্রস্তুতি দেওয়ার দায়িত্ব তাঁরই ছিল।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক শিক্ষক ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও পাঠদান করেন না, শুধু উপস্থিতির সই দিয়েই কাজ শেষ। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট না পড়লে উপেক্ষা করা হয়, ক্লাসে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র শীল এর একক ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়েও রয়েছে শিক্ষক মহলে অসন্তোষ। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, স্কুলে কোনো সিদ্ধান্তে কারো মতামতের গুরুত্ব নেই। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন প্রধান শিক্ষক একাই। এতে শিক্ষকদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমে গেছে, এবং প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশও ভেঙে পড়েছে।

প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলছেন—প্রতিষ্ঠানে এখন এক ধরনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নেই, নেই জবাবদিহিতা। ফলে ফলাফলে এর প্রভাব পড়ছে ভয়াবহভাবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

আমিন মেমোরিয়ালে গণিতে গণহারে ফেল: শিক্ষকের দাবি, ‘প্রশ্ন ছিল এলোমেলো!’

আপডেট : ০৯:০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফলাফল উপহার দিয়েছে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয় মোট ১২৭ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে মাত্র ৬৮ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ৫৯ জন। পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫৬.১৯ শতাংশ। তবে সবচেয়ে হতাশার খবর—একজন শিক্ষার্থীও A+ পায়নি।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিদ্যালয়জুড়ে শুরু হয়েছে চরম অস্বস্তি ও সমালোচনার ঝড়। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে—এই ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংকট, দায়িত্বহীনতা এবং শিক্ষকদের উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়—A পেয়েছে ১২ জন, A- পেয়েছে ২২ জন, B পেয়েছে ১০ জন, C পেয়েছে ১১ জন এবং D গ্রেড পেয়েছে ৪ জন শিক্ষার্থী। মান বিচারে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নিচু গ্রেডে পাস করেছে, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে—স্কুলটিতে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্বময় দুটি গ্রুপ সক্রিয়, একটি গ্রুপ পাঠদানে আন্তরিক হলেও অন্য দলটি জড়িয়ে আছে প্রাইভেট টিউশন বাণিজ্যে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসে সময় না দিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহী। তাদের মধ্যে নাম উঠে এসেছে গণিত বিষয়ের শিক্ষক কামরুল আহসান পাটোয়ারী ও আওলাদ হোসেন এর।

গণিতেই এবার সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে শিক্ষার্থীরা। আর এই বিষয়েই ক্লাস করান কামরুল আহসান স্যার, যিনি নিজেই দাবি করেন—“আমি তো বোর্ডের গণিত বিষয়ের হেড এক্সামিনার। প্রশ্নটা একটু এলোমেলো ছিল। তাই শিক্ষার্থীরা নার্ভাস হয়ে গেছে। সব জায়গাতেই তো গণিতে ফল খারাপ হয়েছে। আমি মোটামুটি সন্তুষ্ট রেজাল্ট নিয়ে।”

তাঁর এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। তাদের প্রশ্ন—যেখানে একজন শিক্ষক নিজেকে বোর্ডের হেড এক্সামিনার দাবি করেন, সেখানে তাঁর স্কুলেই গণিতে এত বড় ভরাডুবি কেন? প্রশ্ন কঠিন হলেও ক্লাসে তো প্রস্তুতি দেওয়ার দায়িত্ব তাঁরই ছিল।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক শিক্ষক ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও পাঠদান করেন না, শুধু উপস্থিতির সই দিয়েই কাজ শেষ। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট না পড়লে উপেক্ষা করা হয়, ক্লাসে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র শীল এর একক ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়েও রয়েছে শিক্ষক মহলে অসন্তোষ। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, স্কুলে কোনো সিদ্ধান্তে কারো মতামতের গুরুত্ব নেই। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন প্রধান শিক্ষক একাই। এতে শিক্ষকদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমে গেছে, এবং প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশও ভেঙে পড়েছে।

প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলছেন—প্রতিষ্ঠানে এখন এক ধরনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নেই, নেই জবাবদিহিতা। ফলে ফলাফলে এর প্রভাব পড়ছে ভয়াবহভাবে।