ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমাজ থেকে নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং  ও মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে  ঐক্যবদ্ধ হতে হবে — জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • 31

বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা মঙ্গলবার  ১৯শে আগস্ট  সোনাতলা উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

সকাল ১১টায়  তিনি বালুয়াহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিক, সহকারী কমিশনার তাজ ওয়ার তানজামুল হক, সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মিলাদুন্নবী, সিএ মামুনুর রশিদ, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তা আবুল হোসেন ও বালুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

পরে বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে সোনাতলা পৌরসভার কর মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান হাবিব রাজা, পৌর বিএনপি সভাপতি আবু নাসের ওয়াহেদ নবেল, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম খান নিপু, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ আহসানুল মোমেনীন সোহেল, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহিন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাক, সেলিম রেজা বাবলা ও উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান চাঁদসহ পৌরসভার কর্মকর্তা ও  রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি সোনাতলা থানা পরিদর্শন করেন এবং সালামি মঞ্চে সালাম গ্রহণ করেন।

বেলা ২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণ, ঢেউটিন, শুকনা খাবার, সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করেন।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম আলী জানান, ৫০ জন সদস্যকে মোট ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার ঋণ সরল সুদে বিতরণ করা হয়েছে।

বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসক হরিখালি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন,  মধুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের  অসহায়দের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন। পরে মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে  মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের আওতায় ৩৮৮ জন সুবিধাভোগীর মাঝে চাল ও কার্ড বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেফা উল আজম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাঈনুল হক, মধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম, পাকুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুল বারী টিম, জোরগাছা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা তার বক্তব্যে বলেন—
“সমাজ থেকে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ ও মাদক সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হবে। যৌতুক একটি সামাজিক অভিশাপ। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদেরকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজে এখনও একটি বড় সমস্যা। অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিলে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। সন্তান জন্মের পর তারা নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার শিকার হয়, যা একটি সুস্থ জাতি গঠনে বড় অন্তরায়। এজন্য বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কিশোর অপরাধ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজপতি ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এটি শুধু একজন মানুষকেই ধ্বংস করে না, তার পরিবার ও সমাজকেও অশান্ত করে তোলে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আপস করা যাবে না। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক—সবাইকে মাদক প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

সমাজ থেকে নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং  ও মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে  ঐক্যবদ্ধ হতে হবে — জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা

আপডেট : ০৮:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা মঙ্গলবার  ১৯শে আগস্ট  সোনাতলা উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

সকাল ১১টায়  তিনি বালুয়াহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিক, সহকারী কমিশনার তাজ ওয়ার তানজামুল হক, সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মিলাদুন্নবী, সিএ মামুনুর রশিদ, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তা আবুল হোসেন ও বালুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

পরে বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে সোনাতলা পৌরসভার কর মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান হাবিব রাজা, পৌর বিএনপি সভাপতি আবু নাসের ওয়াহেদ নবেল, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম খান নিপু, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ আহসানুল মোমেনীন সোহেল, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহিন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাক, সেলিম রেজা বাবলা ও উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান চাঁদসহ পৌরসভার কর্মকর্তা ও  রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি সোনাতলা থানা পরিদর্শন করেন এবং সালামি মঞ্চে সালাম গ্রহণ করেন।

বেলা ২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণ, ঢেউটিন, শুকনা খাবার, সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করেন।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম আলী জানান, ৫০ জন সদস্যকে মোট ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার ঋণ সরল সুদে বিতরণ করা হয়েছে।

বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসক হরিখালি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন,  মধুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের  অসহায়দের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন। পরে মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে  মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের আওতায় ৩৮৮ জন সুবিধাভোগীর মাঝে চাল ও কার্ড বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেফা উল আজম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাঈনুল হক, মধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম, পাকুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুল বারী টিম, জোরগাছা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা তার বক্তব্যে বলেন—
“সমাজ থেকে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ ও মাদক সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হবে। যৌতুক একটি সামাজিক অভিশাপ। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদেরকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজে এখনও একটি বড় সমস্যা। অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিলে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। সন্তান জন্মের পর তারা নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার শিকার হয়, যা একটি সুস্থ জাতি গঠনে বড় অন্তরায়। এজন্য বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কিশোর অপরাধ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজপতি ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এটি শুধু একজন মানুষকেই ধ্বংস করে না, তার পরিবার ও সমাজকেও অশান্ত করে তোলে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আপস করা যাবে না। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক—সবাইকে মাদক প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”