ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে ভুয়া এনজিওর খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাল দেড় শতাধিক গ্রামবাসী

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:০৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • 50

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালচোঁ ইউনিয়নে ভুয়া এনজিওর প্রতারণায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে রামপুর, সৈয়দপুর, নওয়াহাটা, মাড়ামুড়া সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের দেড় শতাধিক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে প্রতারকরা গ্রামবাসীর কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত সংগ্রহ করে। প্রতিশ্রুতি ছিল বিকেলে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই চক্রের সদস্যরা হঠাৎ করেই গা-ঢাকা দেয়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে ঋণের প্রলোভন দেখায়। বলা হয়েছিল—১ লাখ টাকা ঋণ নিতে চাইলে জামানত ১০ হাজার টাকা, ৫ লাখ টাকা ঋণ নিতে চাইলে জামানত ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। এছাড়া ঋণ ২ থেকে ৪ বছরের মধ্যে স্বল্পসুদে পরিশোধের সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হয়।

১৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় রামপুর দক্ষিণপাড়ার মজুমদার বাড়িতে ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এজন্য স্টেজ, সামিয়ানা, এমনকি ৫০০ মানুষের খাবার পর্যন্ত রান্না করা হয়েছিল। কিন্তু দুপুরের আগেই প্রতারকরা চুপিসারে উধাও হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা নিজেদের আকিজ কোম্পানির আওতাধীন একটি সরকারি সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচয় দিত। অফিসে ব্যানার টানানো হলেও কোনো টাকা জমার বিপরীতে রশিদ দেওয়া হয়নি।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আজ সকাল সাড়ে ৭টায় আমরা টাকা জমা দিই। কিন্তু ১১টার দিকে দেখি অফিস খালি। প্রতিবাদ করলে বাড়ির মালিকসহ কয়েকজন আমাদের লাঠিসোটা দিয়ে আক্রমণ করেন, এতে কয়েকজন আহত হন। পরে তালা ভেঙে দেখা যায়—কিছু খালি রেজিস্টার বই ও ফাইল ছাড়া কিছুই নেই।”

অফিসের জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়া মালিক মমিন মজুমদার জানান,

“গতকাল তারা আমার বাড়ি ভাড়া নেয়। আজকে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরের আগেই উধাও হয়ে যায়।”

আনন্দ ডেকোরেটরের কর্ণধার আবু সাঈদ বলেন, “২৬ হাজার টাকায় আমার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। ৫০০ মানুষের খাবার, স্টেজ আর সাজসজ্জার ব্যবস্থা করছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখি—সবাই পালিয়েছে।”

প্রতারিত মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে গ্রামীণ মানুষ এভাবে প্রতারণার শিকার হতে থাকবে।”

হাজিগঞ্জ থানার ওসি মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে ভুয়া এনজিওর খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাল দেড় শতাধিক গ্রামবাসী

আপডেট : ০৯:০৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালচোঁ ইউনিয়নে ভুয়া এনজিওর প্রতারণায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে রামপুর, সৈয়দপুর, নওয়াহাটা, মাড়ামুড়া সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের দেড় শতাধিক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে প্রতারকরা গ্রামবাসীর কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত সংগ্রহ করে। প্রতিশ্রুতি ছিল বিকেলে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই চক্রের সদস্যরা হঠাৎ করেই গা-ঢাকা দেয়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে ঋণের প্রলোভন দেখায়। বলা হয়েছিল—১ লাখ টাকা ঋণ নিতে চাইলে জামানত ১০ হাজার টাকা, ৫ লাখ টাকা ঋণ নিতে চাইলে জামানত ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। এছাড়া ঋণ ২ থেকে ৪ বছরের মধ্যে স্বল্পসুদে পরিশোধের সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হয়।

১৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় রামপুর দক্ষিণপাড়ার মজুমদার বাড়িতে ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এজন্য স্টেজ, সামিয়ানা, এমনকি ৫০০ মানুষের খাবার পর্যন্ত রান্না করা হয়েছিল। কিন্তু দুপুরের আগেই প্রতারকরা চুপিসারে উধাও হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা নিজেদের আকিজ কোম্পানির আওতাধীন একটি সরকারি সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচয় দিত। অফিসে ব্যানার টানানো হলেও কোনো টাকা জমার বিপরীতে রশিদ দেওয়া হয়নি।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আজ সকাল সাড়ে ৭টায় আমরা টাকা জমা দিই। কিন্তু ১১টার দিকে দেখি অফিস খালি। প্রতিবাদ করলে বাড়ির মালিকসহ কয়েকজন আমাদের লাঠিসোটা দিয়ে আক্রমণ করেন, এতে কয়েকজন আহত হন। পরে তালা ভেঙে দেখা যায়—কিছু খালি রেজিস্টার বই ও ফাইল ছাড়া কিছুই নেই।”

অফিসের জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়া মালিক মমিন মজুমদার জানান,

“গতকাল তারা আমার বাড়ি ভাড়া নেয়। আজকে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরের আগেই উধাও হয়ে যায়।”

আনন্দ ডেকোরেটরের কর্ণধার আবু সাঈদ বলেন, “২৬ হাজার টাকায় আমার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। ৫০০ মানুষের খাবার, স্টেজ আর সাজসজ্জার ব্যবস্থা করছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখি—সবাই পালিয়েছে।”

প্রতারিত মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে গ্রামীণ মানুষ এভাবে প্রতারণার শিকার হতে থাকবে।”

হাজিগঞ্জ থানার ওসি মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।