চাঁদপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাবুরহাট তিন রাস্তার মোড়টি এখন যোগাযোগ ও বাণিজ্যের একটি ব্যস্ত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চাঁদপুর-ঢাকা, কুমিল্লা এবং নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রক্ষাকারী এই মোড়টিকে ঘিরে স্থানীয়দের দাবি—এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণ করা হোক, যাতে এটি জেলার গেটওয়ে হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পায়।
এই মোড় দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, মহামায়া, বাকিলা ও শ্রীরায়েশ্বর হয়ে দাউদকান্দি ঘুরে ঢাকা যাওয়ার জন্য এটি একটি ব্যস্ত ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মূলত ধনাগোদা নদী পার হয়ে বিকল্প পথে ঢাকা যাওয়ার সহজ ব্যবস্থা থাকায় এই রুটটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
যাত্রীচাপের কারণে এখানে গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও বাসস্ট্যান্ড। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দোকানপাট খোলা থাকে যাত্রী ও স্থানীয়দের বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করতে। তবে পরিকল্পনাহীন যানবাহন পার্কিং ও এলোমেলো চলাচলের কারণে বাবুরহাট-পেন্নাই সড়কের মাথায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে, যা যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা জানান, “এই মোড়টি শুধু যোগাযোগের জন্য নয়, বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ এর যথাযথ উন্নয়ন বা পরিকল্পনার অভাবে সম্ভাবনাগুলো নষ্ট হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, এরশাদ সরকারের আমলে এই মোড়েই একটি মাইলস্টোন স্থাপন করে মতলব সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।
এলাকাবাসীর দৃঢ় দাবি—এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টিকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিকায়ন করে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণ করা হোক। এতে করে এটি চাঁদপুর জেলার গেটওয়ে হিসেবে পরিচিতি পাবে এবং পর্যটন ও অর্থনৈতিক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।




















