ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বহুরুপী স্কুল শিক্ষক শাখাওয়াত

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে রুপ ধারন করে আসছেন স্কুল শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন। তিনি শিক্ষকতার পেশা থেকে কোন কাজটি করেননি যে তাকে নিয়ে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। এমন কোন কাজ থেকে নিজকে তিনি রেহাই দেননি। তার নিজ এলাকায় নারী-পুরুষের বিয়ে ভাঙ্গার কাজেও নিজকে জড়িত রেখেছেন। বাসার গৃহপরিচারিকাকেও শ্লীলতাহানি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে শিক্ষক শাখাওয়াত ব্যক্তিগত কাজে সময় দেন, এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি এলাকায় সম্পত্তি বিক্রির দালালীর সাথেও নিজকে জড়িত রেখেছেন।
সম্প্রতি শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ভাইকে (শিশু) মারধর করেন। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। খোঁদ এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৮০নং বলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার তার এলাকায় ঘুরে অভিযোগগুলো তুলেছেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
জানা যায়, ২০০৯ সালে অন্য একটি বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে নিজ বাড়ির সম্মূখের বিদ্যালয়ে আসেন। নিজ সুবিধার মাথা রেখে আর কোথায়ও তিনি বদলী হননি। নিজ এলাকার সম্পর্কীয় নিকট আত্মীয়ের বিয়ের পর ওই ব্যক্তির শশুরলায়ে মিথ্যা কথা রটিয়ে দেন। পরে ওই যুবকের বিয়েটি ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিষয়টির সাথে শাখাওয়াত হোসেনের সম্পর্কের আঁচ করতে পেরে যুবক তাকে জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই স্কুল শিক্ষক শাখাওয়াত তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।
তার স্ত্রী গর্ভবতী হলে বাসার কাজের জন্য একজন গৃহপরিচারিকা রাখেন। কয়েকদিন পর গৃহপরিচারিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এলাকায় শালিশ-দরবার হয়। প্রমানিত হওয়া উপস্থিত সকলের নিকট ক্ষমা চেয়ে নেন অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন।
স্কুল ফাঁকি দিয়ে চাষাবাদ ও গরু-ছাগল লালন পালন করেন। শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন স্থানীয় লোক হওয়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেননি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি একজন সহকারী শিক্ষকের কাছে জিম্মি রয়েছেন।
গত ৩১ আগষ্ট ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর ছোট ভাই (৪) তার সাথে দেখা করতে গেলে শিক্ষক শাখাওয়াত তাকে বেদম মারধর করেন। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা সাইফুল ইসলাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিদ্যালয় গেলে এধরনের আরো কয়েকটি মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায় শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন এর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি যা অন্যায় করেছি, এজন্য ক্ষমা প্রার্থী। আর কখনো এমন ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবো না।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ চৌধুরী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে শিক্ষক শাখাওয়াত দোষী হলে আমরা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হব।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি লিখত অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অভিযোগ পত্রটি পাঠিয়েছি। তিনি তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বহুরুপী স্কুল শিক্ষক শাখাওয়াত

আপডেট : ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে রুপ ধারন করে আসছেন স্কুল শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন। তিনি শিক্ষকতার পেশা থেকে কোন কাজটি করেননি যে তাকে নিয়ে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। এমন কোন কাজ থেকে নিজকে তিনি রেহাই দেননি। তার নিজ এলাকায় নারী-পুরুষের বিয়ে ভাঙ্গার কাজেও নিজকে জড়িত রেখেছেন। বাসার গৃহপরিচারিকাকেও শ্লীলতাহানি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে শিক্ষক শাখাওয়াত ব্যক্তিগত কাজে সময় দেন, এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি এলাকায় সম্পত্তি বিক্রির দালালীর সাথেও নিজকে জড়িত রেখেছেন।
সম্প্রতি শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ভাইকে (শিশু) মারধর করেন। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। খোঁদ এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৮০নং বলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার তার এলাকায় ঘুরে অভিযোগগুলো তুলেছেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
জানা যায়, ২০০৯ সালে অন্য একটি বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে নিজ বাড়ির সম্মূখের বিদ্যালয়ে আসেন। নিজ সুবিধার মাথা রেখে আর কোথায়ও তিনি বদলী হননি। নিজ এলাকার সম্পর্কীয় নিকট আত্মীয়ের বিয়ের পর ওই ব্যক্তির শশুরলায়ে মিথ্যা কথা রটিয়ে দেন। পরে ওই যুবকের বিয়েটি ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিষয়টির সাথে শাখাওয়াত হোসেনের সম্পর্কের আঁচ করতে পেরে যুবক তাকে জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই স্কুল শিক্ষক শাখাওয়াত তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।
তার স্ত্রী গর্ভবতী হলে বাসার কাজের জন্য একজন গৃহপরিচারিকা রাখেন। কয়েকদিন পর গৃহপরিচারিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এলাকায় শালিশ-দরবার হয়। প্রমানিত হওয়া উপস্থিত সকলের নিকট ক্ষমা চেয়ে নেন অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন।
স্কুল ফাঁকি দিয়ে চাষাবাদ ও গরু-ছাগল লালন পালন করেন। শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন স্থানীয় লোক হওয়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেননি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি একজন সহকারী শিক্ষকের কাছে জিম্মি রয়েছেন।
গত ৩১ আগষ্ট ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর ছোট ভাই (৪) তার সাথে দেখা করতে গেলে শিক্ষক শাখাওয়াত তাকে বেদম মারধর করেন। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা সাইফুল ইসলাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিদ্যালয় গেলে এধরনের আরো কয়েকটি মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায় শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন এর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি যা অন্যায় করেছি, এজন্য ক্ষমা প্রার্থী। আর কখনো এমন ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবো না।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ চৌধুরী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে শিক্ষক শাখাওয়াত দোষী হলে আমরা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হব।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি লিখত অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অভিযোগ পত্রটি পাঠিয়েছি। তিনি তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবেন।