হাজীগঞ্জে বসতঘরের পাশে গোয়ালঘর স্থাপন, আর সেই গোয়ালঘরের পশুর বিষ্ঠায় দূর্ঘন্ধে অতিষ্ট পরিবারের সদস্যরা। গত ছয় বছর ধরে এভাবেই দুর্ভোগের শিকার হলেও হুমকি-ধমকি ও মারমুখী আচরন এবং স্বামী ও একমাত্র ছেলে প্রবাসের থাকায় ভয়ে মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছেন, পারুল বেগমের পরিবারের সদস্যরা।
এমনকি তিন বছর বয়সি মিম নামের শিশুকে প্রায় সময় ভয়ভীতি ও মারধর করার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কোন লাভ হয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিও কাউকে তোয়াক্কা করেনি। সবশেষ দূর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে গত (১০ সেপ্টেম্বর) বুধবার প্রতিবাদ ও গোয়ালঘরে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর অনুরোধ করা হয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিত হামলা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। মারধরে আহত হন, শিশু ও নারী’সহ চারজন। তারা হলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সেন্দ্রা গ্রামের ছাড়া বাড়ির হারুনুর রশিদের স্ত্রী পারুল বেগম (৫৫), ইমরানের স্ত্রী শারমিন বেগম (২১) ও তার শিশু সন্তান মিম (৩), মো. আলীর স্ত্রী সুমি বেগম (২৪)।
গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত ও ভুক্তভোগী পারুল বেগম হাজীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে একই বাড়ির মো. আলমগীরের ছেলে আল-আমিন (৩০), সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. আলমগীর ও আলমগীরের স্ত্রী আমেনা বেগমকে (৪৫) বিবাদী করা হয়।
বাদী পারুল বেগম বলেন, আমাদের ঘরে পুরুষ বলতে কেউ নেই। আমার স্বামী ও একমাত্র ছেলে বিদেশে থাকে। ৬/৭ বছর পূর্বে আমাদের বসতঘরের পাশে আলমগীর গোয়ালঘর স্থাপন করেন। গরুর বিষ্ঠার দূর্গন্ধে আমরা প্রায় সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। এর মধ্যে আমার শিশু নাতনি মিম সবসময় অসুস্থই থাকে।
বিষয়টি নিয়ে কত শতবার বলা হলেও কোন লাভ হয়নি। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ আমরা, উল্টো তারাই আমাদেরকে গালমন্দ ও মারধর করতে আসে। আমাদের ঘরে পুরুষ না থাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আল-আমিন, তার বাবা আলমগীর ও মা আমেনা অতর্কিত হামলা ও মারধর করে। তারা আমার শিশু নাতনিকেও ছাড়েনি।
শারমিন বেগম বলেন, দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে গোয়ালঘরে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর কথা বললে তারা সবসময় মন্দচারি (গালমন্দ) করে, হুমকি-ধমকি দেয়। আমাদের ঘরে পুরুষ না থাকায় তাদের ভয়ে আমরা কিছু বলিনা। আমরা শিশু বাচ্ছাটাকে তারা সবসময় ভয় লাগায়। ওইদিন ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর কথা বললে তারা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করে এবং আমার শ্লীলতাহানী করে। আমি মারধর সহ্য করে কোনমতে ইজ্জত বাঁচিয়েছি।
এদিকে মারধর ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বলেন, আমি গোয়ালঘর আগে করেছি, পরে তারা বিল্ডিং করেছে। আমরা তাদেরকে মারধর করিনি, তারাই আমাদেরকে মারধর করেছে। তাদের মারধরে আমরা এখন চাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি আছি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















