ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেনের দাবি, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 594

 

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রেল রুট দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে মাত্র দুটি আন্তঃনগর ট্রেন— মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস— দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও ট্রেন সংখ্যা না বাড়ায় এবং বিদ্যমান ট্রেনগুলোর অব্যবস্থাপনা ও জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে যাত্রীসেবা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্রেন দুটির ওয়াশরুম ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে, লাইট ও ফ্যান নষ্ট হয়ে আছে, বসার আসনগুলোর অবস্থাও বেহাল। পুরনো কোচগুলো প্রায় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়ক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে অনেক সময় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হচ্ছে, যা কষ্টকর ও অস্বস্তিকর।

 

এই রুট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ব্যবসা, চাকরি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রামে যান। তুলনামূলক কম ভাড়া ও সময় বাঁচানোর কারণে রেল ভ্রমণ যাত্রীদের প্রথম পছন্দ হলেও পর্যাপ্ত ট্রেনের অভাব এবং বিদ্যমান ট্রেনের নাজুক অবস্থা বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এই রুটে নতুন ট্রেন চালু সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বিদ্যমান দুটি ট্রেনের সংস্কার ও রেললাইন আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা আশা করছেন, দ্রুত নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে যাত্রীসেবায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভ্রমণ সহজ হবে এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।

বর্তমানে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই রুটে মাত্র দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তাই তাদের প্রত্যাশা—রেলপথ মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করবে এবং বিদ্যমান ট্রেনগুলোর মানোন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেনের দাবি, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

আপডেট : ০৮:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রেল রুট দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে মাত্র দুটি আন্তঃনগর ট্রেন— মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস— দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও ট্রেন সংখ্যা না বাড়ায় এবং বিদ্যমান ট্রেনগুলোর অব্যবস্থাপনা ও জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে যাত্রীসেবা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্রেন দুটির ওয়াশরুম ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে, লাইট ও ফ্যান নষ্ট হয়ে আছে, বসার আসনগুলোর অবস্থাও বেহাল। পুরনো কোচগুলো প্রায় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়ক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে অনেক সময় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হচ্ছে, যা কষ্টকর ও অস্বস্তিকর।

 

এই রুট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ব্যবসা, চাকরি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রামে যান। তুলনামূলক কম ভাড়া ও সময় বাঁচানোর কারণে রেল ভ্রমণ যাত্রীদের প্রথম পছন্দ হলেও পর্যাপ্ত ট্রেনের অভাব এবং বিদ্যমান ট্রেনের নাজুক অবস্থা বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এই রুটে নতুন ট্রেন চালু সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বিদ্যমান দুটি ট্রেনের সংস্কার ও রেললাইন আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা আশা করছেন, দ্রুত নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে যাত্রীসেবায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভ্রমণ সহজ হবে এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।

বর্তমানে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই রুটে মাত্র দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তাই তাদের প্রত্যাশা—রেলপথ মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করবে এবং বিদ্যমান ট্রেনগুলোর মানোন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।