ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়ি-গুইমারায় স”হিং’সতা: সেনাবাহিনীর ধৈর্যশীল পদক্ষেপে দা”ঙ্গা প্রতিহত

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১২:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 65

 

খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ইউপিডিএফ (মূল) ও এর সহযোগী সংগঠনের উসকানিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লেও সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থান ও ধৈর্যের কারণে বড় ধরনের দাঙ্গা এড়ানো গেছে। গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর তিন কর্মকর্তা ও ১০ সদস্যসহ বিজিবির কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সেনাবাহিনী জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগের পর সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই ইউপিডিএফ ও তাদের অঙ্গসংগঠন বিক্ষোভ, হরতাল ও অবরোধ শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কিছু ব্যক্তি বাঙালিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

২৬ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে সেনা টহলদলের উপর হামলা হয়, এতে তিন সেনাসদস্য আহত হন। ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। সারারাত টানা অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় আবারো সহিংসতা শুরু হয়। ইউপিডিএফ সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেনা সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। একই সময় পাহাড় থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ১০০-১৫০ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সেনা ও সাধারণ মানুষ হতাহত হন। তবে দ্রুত অভিযানে সেনাবাহিনী হামলাকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করে।

এই সময়ে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা বাজার ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বিকেলে অতিরিক্ত সেনাদল মোতায়েনের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সেনাবাহিনী বলেছে, ইউপিডিএফ পরিকল্পিতভাবে নারী-শিশুদের ব্যবহার করছে এবং বহিরাগতদের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ইতোমধ্যেই বিজিবি কাপ্তাই চেকপোস্টে বিপুল দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতিগোষ্ঠীকে সংযত থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেছে—
“অপপ্রচার ও উসকানির ঊর্ধ্বে থেকে সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনী যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”

 

সূত্র -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

খাগড়াছড়ি-গুইমারায় স”হিং’সতা: সেনাবাহিনীর ধৈর্যশীল পদক্ষেপে দা”ঙ্গা প্রতিহত

আপডেট : ১২:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ইউপিডিএফ (মূল) ও এর সহযোগী সংগঠনের উসকানিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লেও সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থান ও ধৈর্যের কারণে বড় ধরনের দাঙ্গা এড়ানো গেছে। গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর তিন কর্মকর্তা ও ১০ সদস্যসহ বিজিবির কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সেনাবাহিনী জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগের পর সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই ইউপিডিএফ ও তাদের অঙ্গসংগঠন বিক্ষোভ, হরতাল ও অবরোধ শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কিছু ব্যক্তি বাঙালিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

২৬ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে সেনা টহলদলের উপর হামলা হয়, এতে তিন সেনাসদস্য আহত হন। ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। সারারাত টানা অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় আবারো সহিংসতা শুরু হয়। ইউপিডিএফ সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেনা সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। একই সময় পাহাড় থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ১০০-১৫০ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সেনা ও সাধারণ মানুষ হতাহত হন। তবে দ্রুত অভিযানে সেনাবাহিনী হামলাকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করে।

এই সময়ে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা বাজার ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বিকেলে অতিরিক্ত সেনাদল মোতায়েনের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সেনাবাহিনী বলেছে, ইউপিডিএফ পরিকল্পিতভাবে নারী-শিশুদের ব্যবহার করছে এবং বহিরাগতদের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ইতোমধ্যেই বিজিবি কাপ্তাই চেকপোস্টে বিপুল দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতিগোষ্ঠীকে সংযত থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেছে—
“অপপ্রচার ও উসকানির ঊর্ধ্বে থেকে সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনী যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”

 

সূত্র -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী