ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বিক্রি ও পরিবহন নি”ষি”দ্ধ:জেলা প্রশাসনের কঠোরবার্তা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৫:০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • 77

 

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এই মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকার প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫ এর অংশ হিসেবে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ আহরণ, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

এই উপলক্ষে বুধবার (১ অক্টোবর) চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জেলার বিভিন্ন নদী তীরবর্তী জেলে পল্লী, মাছের আড়ৎ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভায় অংশ নেন। পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন।

পথসভায় জেলা প্রশাসক মা ইলিশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় জেলেদের সহযোগিতা অপরিহার্য। সরকার জেলেদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে তারা বিকল্প জীবিকা চালাতে পারে।

এসময় স্থানীয় জেলেদের হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার শপথ করানো হয়। উপস্থিত জেলেরা প্রতিশ্রুতি দেন, তারা নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকবেন এবং মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে থাকবেন।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আশ্বিন মাসে নদীতে প্রচুর সংখ্যক মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। এই সময়ে ইলিশ ধরা হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। তাই সরকার প্রতিবছর এই সময় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে থাকে। নিষিদ্ধ সময়ে আইন অমান্য করলে জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন পথসভায় বলেন—
“মা ইলিশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। জেলেরা যদি নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ইলিশের স্বাদ পাবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য মা ইলিশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

চাঁদপুর জেলা দেশের প্রধান ইলিশ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। ইলিশ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু চাঁদপুর নয়, পুরো দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বিক্রি ও পরিবহন নি”ষি”দ্ধ:জেলা প্রশাসনের কঠোরবার্তা

আপডেট : ০৫:০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

 

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এই মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকার প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫ এর অংশ হিসেবে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ আহরণ, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

এই উপলক্ষে বুধবার (১ অক্টোবর) চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জেলার বিভিন্ন নদী তীরবর্তী জেলে পল্লী, মাছের আড়ৎ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভায় অংশ নেন। পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন।

পথসভায় জেলা প্রশাসক মা ইলিশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় জেলেদের সহযোগিতা অপরিহার্য। সরকার জেলেদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে তারা বিকল্প জীবিকা চালাতে পারে।

এসময় স্থানীয় জেলেদের হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার শপথ করানো হয়। উপস্থিত জেলেরা প্রতিশ্রুতি দেন, তারা নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকবেন এবং মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে থাকবেন।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আশ্বিন মাসে নদীতে প্রচুর সংখ্যক মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। এই সময়ে ইলিশ ধরা হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। তাই সরকার প্রতিবছর এই সময় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে থাকে। নিষিদ্ধ সময়ে আইন অমান্য করলে জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন পথসভায় বলেন—
“মা ইলিশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। জেলেরা যদি নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ইলিশের স্বাদ পাবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য মা ইলিশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

চাঁদপুর জেলা দেশের প্রধান ইলিশ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। ইলিশ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু চাঁদপুর নয়, পুরো দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।