ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালী বনাম কুমিল্লা: প্রশাসনিক বিভাজনের নতুন বিতর্ক

  • সুজন মাহমুদ
  • আপডেট : ০৬:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • 139

 

 

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা নোয়াখালী আবারও বিভাগের দাবিতে সরব। কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার পর থেকেই নোয়াখালীর জনমনে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই একে ন্যায়বিচারহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, যেখানে নোয়াখালীর দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে বলে মত দিয়েছেন স্থানীয়রা।

নোয়াখালী একসময় ছিল পূর্বাঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদ। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্মভূমি, নদীমাতৃক জনপদের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—সবকিছুই ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগের দাবির পক্ষে যথেষ্ট শক্ত ভিত্তি। তবুও কুমিল্লাকে যখন বিভাগ করা হলো, তখন নোয়াখালীবাসীর স্বপ্ন যেন কিছুটা থমকে গেল।

স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, নাগরিক ফোরাম ও রাজনৈতিক নেতারা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, নোয়াখালী বিভাগ গঠন করে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। তাদের ভাষ্য, বিভাগ হলে নোয়াখালীতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে, উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হবে এবং মানুষ উপকৃত হবে।

একজন কৃষক বলেন, “আমরা বারবার অবহেলিত হচ্ছি। বিভাগ হলে আমাদের এলাকার সেবা ও সুযোগ-সুবিধা হাতের নাগালে আসবে।”
একজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “কুমিল্লা বিভাগের ঘোষণায় আমরা আশাহত। আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস—সবই তো কম কিছু নয়। আমরা চাই নোয়াখালী বিভাগ হোক।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নোয়াখালী বিভাগ গঠনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ যেমন জনগণের উপকারে আসবে, তেমনি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।

এদিকে কুমিল্লা বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর নোয়াখালী জেলায় বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের দাবির কথা জানিয়ে যাচ্ছে।

নোয়াখালীবাসীর বিশ্বাস, সরকার অবিলম্বে এই অঞ্চলের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কারণ, নোয়াখালী শুধু একটি জেলা নয়, এটি একটি ঐতিহ্যের নাম—যা প্রশাসনিক মর্যাদারও দাবিদার।

 

RK / SAIF

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

নোয়াখালী বনাম কুমিল্লা: প্রশাসনিক বিভাজনের নতুন বিতর্ক

আপডেট : ০৬:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

 

 

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা নোয়াখালী আবারও বিভাগের দাবিতে সরব। কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার পর থেকেই নোয়াখালীর জনমনে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই একে ন্যায়বিচারহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, যেখানে নোয়াখালীর দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে বলে মত দিয়েছেন স্থানীয়রা।

নোয়াখালী একসময় ছিল পূর্বাঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদ। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্মভূমি, নদীমাতৃক জনপদের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—সবকিছুই ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগের দাবির পক্ষে যথেষ্ট শক্ত ভিত্তি। তবুও কুমিল্লাকে যখন বিভাগ করা হলো, তখন নোয়াখালীবাসীর স্বপ্ন যেন কিছুটা থমকে গেল।

স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, নাগরিক ফোরাম ও রাজনৈতিক নেতারা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, নোয়াখালী বিভাগ গঠন করে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। তাদের ভাষ্য, বিভাগ হলে নোয়াখালীতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে, উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হবে এবং মানুষ উপকৃত হবে।

একজন কৃষক বলেন, “আমরা বারবার অবহেলিত হচ্ছি। বিভাগ হলে আমাদের এলাকার সেবা ও সুযোগ-সুবিধা হাতের নাগালে আসবে।”
একজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “কুমিল্লা বিভাগের ঘোষণায় আমরা আশাহত। আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস—সবই তো কম কিছু নয়। আমরা চাই নোয়াখালী বিভাগ হোক।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নোয়াখালী বিভাগ গঠনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ যেমন জনগণের উপকারে আসবে, তেমনি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।

এদিকে কুমিল্লা বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর নোয়াখালী জেলায় বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের দাবির কথা জানিয়ে যাচ্ছে।

নোয়াখালীবাসীর বিশ্বাস, সরকার অবিলম্বে এই অঞ্চলের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কারণ, নোয়াখালী শুধু একটি জেলা নয়, এটি একটি ঐতিহ্যের নাম—যা প্রশাসনিক মর্যাদারও দাবিদার।

 

RK / SAIF