মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের দুকুম এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের বাসিন্দা। একসঙ্গে সাত প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বুধবার সন্ধ্যার দিকে তারা সাগরে কাজ শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা না গেলেও স্থানীয়রা ধারণা করছেন, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের স্বজনেরা জানান, জীবন-জীবিকার তাগিদে ওমান পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। পরিবারকে স্বচ্ছল করার স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রবাসের মাটিতে দিনরাত শ্রম দিতেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ সড়কের ধুলোয় মিশে গেছে।
নিহত সাতজনের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—সারিকাইত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলী কব্বর সেরাংয়ের ছেলে আমিন সওদাগর, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদুল্লাহর ছেলে আরজু এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহীম মেস্তুরীর ছেলে রকি। বাকি চারজনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
এদিকে একসঙ্গে সাতজন প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নে নেমে এসেছে শোকের মাতম। প্রতিটি পরিবারে চলছে কান্নার রোল। যাদের কাঁধে ভর করে সংসারের চাকা ঘুরছিল, সেই প্রবাসীরাই আজ আর ফিরবেন না।
প্রসঙ্গত, ওমান বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। বিশেষ করে সন্দ্বীপসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে ওমানে কাজ করেন। কিন্তু প্রবাস জীবনে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই পরিবারগুলোর জন্য অশ্রুভেজা বাস্তবতা বয়ে আনে।
স্থানীয়রা বলছেন, “প্রতিটি পরিবার স্বপ্ন দেখে সন্তান বিদেশে গিয়ে সংসারের ভাগ্য পাল্টাবে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে সাতজনের মৃত্যু পুরো ইউনিয়নকেই শোকে ভেঙে দিয়েছে।”
নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রবাসী পরিবারগুলো এখন সরকারের সহায়তা কামনা করছেন।




















