ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরুড়ায় শিশুদের হাসি ফোটাচ্ছে নবনির্মিত শিশু পার্ক, ইউএনও এর সৃজনশীল উদ্যোগ 

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • 57
বরুড়ায় সদ্য নির্মিত উপজেলা পরিষদের মিনি শিশু পার্কটি শিশুদের নির্ভরযোগ্য একমাত্র বিনোদন স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। প্রতিদিন পড়ন্ত বেলায় কিংবা ছুটির দিনে অভিভাবকদের সাথে ওই পার্কে আসা নানা বয়সের শিশু-কিশোরদের কোলাহল আর দোলনা, বাঘ, ঘোড়া, বাজপাখি আর বিভিন্ন রাইডারে চড়তে পেরে উচ্ছ্বসিত কোমলমতি শিশুরা। তাদের বাঁধ ভাঙা এ উচ্ছাসে পুলকিত হচ্ছে অভিভাবকেরা। আর এ কর্মযজ্ঞের পূর্ণতায় অভিভাকদের প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং। বরুড়ায় দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এখানে ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের দৈহিক আর মননবিকাশের বিনোদনের কোন পার্ক গড়ে উঠেনি।
এমতাবস্থায় বিষয়টিকে সামনে গত ২০১৬ সালের দিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন নাহার নাজিম উপজেলা পরিষদের চতুরে স্বল্প পরিসরে গাছ-গাছালির সুশীতল ছায়াতলে দুটি স্লিপার আর দোলনা স্থাপনের মধ্যদিয়ে উপজেলা পরিষদের শিশু-কিশোরদের বিনোদনের পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে এর অভিষেক শুরু করা হয়। পরবর্তীতে যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং সম্প্রতি কোমলমতি শিশু-কিশোরদের শারীরিক আর মানসিক বিকাশের নিমিত্তে তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ওই স্থানটিতে শিশু পার্কটি নির্মাণ করা হয়।
প্রায় চার হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট এই পার্কটি বাঘ, বাজপাখি, তিনটি ঘোড়া, চারটি দোলনা, দুটি স্লিপারসহ রাইডার স্থাপন করা হয়। এছাড়া পার্কটিতে স্থাপন করা হয়েছে ব্যাঙের ছাতা সদৃশ, বৈঠক টেবিল। বর্তমানে দৃষ্টি নন্দন এই শিশু পার্কটি নজর কেড়েছে সব বয়সের সাধারণদের। ফলে প্রতিদিন পড়ন্ত বেলায় কিংবা ছুটির দিনে শিশুদের খেলাধুলা আর রাইডারে অংশ গ্রহণে পার্কটি কোলাহলে মুখোরিত হয়ে উঠে। এসময় শতশত কিশোরদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এসময় পার্কে আসা শিশুদের মধ্যে দীপ্ত রায় (৮), নুরুন্নাহার (৯),সৃজন সাহা (১২) সহ অনেকে জানায়, এখানে এসে দোলনায় চড়ে,বাঘ,ঘোড়া সহ বিভিন্ন রাইডারে উঠতে পেরে আর ছুটা-ছুটি করতে পেরে তাদের খুব ভালো লাগছে।
অভিভাবক,সেলিনা খাতুন, জসিম উদ্দিন সহ অনেকে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং নিঃসন্দেহ তিনি একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। আমরা বাসা বাড়িতে বসবাস করি। এখানে এসে শিশুরা মন উজার করে খেলাধুলা করতে পারছে, ছুটাছুটি করতে পারছে।
এছাড়া তারা আরও জানান শিশুদের এই বিনোদনের পার্কটি আরও কলবরে বৃদ্ধি করে নাগর দোলা সহ আরও নতুন কিছু রাইডার স্থাপনের দাবি জানান।
পৌর শহরের কাসেড্ডা গ্রামের বাসিন্দা আলতাম হক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে এই ধরণের শিশু পার্ক স্থাপন অসাধারণ উদ্যোগ। এখানে শিশুদের বিনোদন মাধ্যমে তাদের দৈহিক এবং মানসিক মনোনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং কে তারা অশেষ ধন্যবাদ জানান
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং জানান, পরিত্যক্ত স্থানটিতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে পার্কটি নির্মাণ করা হয়।বরুড়ায় কোন শিশু পার্ক নেই। তাই শিশুরা মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।পৌরসভার যে টি আর প্রকল্প রয়েছে সেখান থেকেই করা এই পার্কটি। পার্কের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।কাজ সমাপ্ত হলেই আমরা সিদ্ধান্ত নিবো এটা রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য কোন লোক নিয়োগ দেওয়া যায় কিনা বা নিয়োগ দিলেও বেতন নির্ধারণ কিভাবে হবে এগুলা আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিবো।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বরুড়ায় শিশুদের হাসি ফোটাচ্ছে নবনির্মিত শিশু পার্ক, ইউএনও এর সৃজনশীল উদ্যোগ 

আপডেট : ১১:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
বরুড়ায় সদ্য নির্মিত উপজেলা পরিষদের মিনি শিশু পার্কটি শিশুদের নির্ভরযোগ্য একমাত্র বিনোদন স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। প্রতিদিন পড়ন্ত বেলায় কিংবা ছুটির দিনে অভিভাবকদের সাথে ওই পার্কে আসা নানা বয়সের শিশু-কিশোরদের কোলাহল আর দোলনা, বাঘ, ঘোড়া, বাজপাখি আর বিভিন্ন রাইডারে চড়তে পেরে উচ্ছ্বসিত কোমলমতি শিশুরা। তাদের বাঁধ ভাঙা এ উচ্ছাসে পুলকিত হচ্ছে অভিভাবকেরা। আর এ কর্মযজ্ঞের পূর্ণতায় অভিভাকদের প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং। বরুড়ায় দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এখানে ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের দৈহিক আর মননবিকাশের বিনোদনের কোন পার্ক গড়ে উঠেনি।
এমতাবস্থায় বিষয়টিকে সামনে গত ২০১৬ সালের দিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন নাহার নাজিম উপজেলা পরিষদের চতুরে স্বল্প পরিসরে গাছ-গাছালির সুশীতল ছায়াতলে দুটি স্লিপার আর দোলনা স্থাপনের মধ্যদিয়ে উপজেলা পরিষদের শিশু-কিশোরদের বিনোদনের পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে এর অভিষেক শুরু করা হয়। পরবর্তীতে যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং সম্প্রতি কোমলমতি শিশু-কিশোরদের শারীরিক আর মানসিক বিকাশের নিমিত্তে তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ওই স্থানটিতে শিশু পার্কটি নির্মাণ করা হয়।
প্রায় চার হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট এই পার্কটি বাঘ, বাজপাখি, তিনটি ঘোড়া, চারটি দোলনা, দুটি স্লিপারসহ রাইডার স্থাপন করা হয়। এছাড়া পার্কটিতে স্থাপন করা হয়েছে ব্যাঙের ছাতা সদৃশ, বৈঠক টেবিল। বর্তমানে দৃষ্টি নন্দন এই শিশু পার্কটি নজর কেড়েছে সব বয়সের সাধারণদের। ফলে প্রতিদিন পড়ন্ত বেলায় কিংবা ছুটির দিনে শিশুদের খেলাধুলা আর রাইডারে অংশ গ্রহণে পার্কটি কোলাহলে মুখোরিত হয়ে উঠে। এসময় শতশত কিশোরদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এসময় পার্কে আসা শিশুদের মধ্যে দীপ্ত রায় (৮), নুরুন্নাহার (৯),সৃজন সাহা (১২) সহ অনেকে জানায়, এখানে এসে দোলনায় চড়ে,বাঘ,ঘোড়া সহ বিভিন্ন রাইডারে উঠতে পেরে আর ছুটা-ছুটি করতে পেরে তাদের খুব ভালো লাগছে।
অভিভাবক,সেলিনা খাতুন, জসিম উদ্দিন সহ অনেকে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং নিঃসন্দেহ তিনি একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। আমরা বাসা বাড়িতে বসবাস করি। এখানে এসে শিশুরা মন উজার করে খেলাধুলা করতে পারছে, ছুটাছুটি করতে পারছে।
এছাড়া তারা আরও জানান শিশুদের এই বিনোদনের পার্কটি আরও কলবরে বৃদ্ধি করে নাগর দোলা সহ আরও নতুন কিছু রাইডার স্থাপনের দাবি জানান।
পৌর শহরের কাসেড্ডা গ্রামের বাসিন্দা আলতাম হক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে এই ধরণের শিশু পার্ক স্থাপন অসাধারণ উদ্যোগ। এখানে শিশুদের বিনোদন মাধ্যমে তাদের দৈহিক এবং মানসিক মনোনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং কে তারা অশেষ ধন্যবাদ জানান
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং জানান, পরিত্যক্ত স্থানটিতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে পার্কটি নির্মাণ করা হয়।বরুড়ায় কোন শিশু পার্ক নেই। তাই শিশুরা মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।পৌরসভার যে টি আর প্রকল্প রয়েছে সেখান থেকেই করা এই পার্কটি। পার্কের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।কাজ সমাপ্ত হলেই আমরা সিদ্ধান্ত নিবো এটা রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য কোন লোক নিয়োগ দেওয়া যায় কিনা বা নিয়োগ দিলেও বেতন নির্ধারণ কিভাবে হবে এগুলা আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিবো।