ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাই’কোলজিক্যাল সমস্যাকে জয় করে হাজীগঞ্জে জিপিএ-৫ অর্জন মাহিরের

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানসিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছে হাজীগঞ্জের তরুণ শিক্ষার্থী মাহির ফয়সাল মাহিন। হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের কারিগরি শাখার হিসাববিজ্ঞান (অ্যাকাউন্টিং) ট্রেড থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মাহির সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় ভুগছে। পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা তার জন্য সহজ ছিল না। তবুও কখনও হাল না ছেড়ে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তার এই অধ্যবসায়ের ফলেই এবারে তার বিভাগ থেকে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
তার মা রৌশন ইয়াজদানী হাজীগঞ্জের মাকড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এবং বাবা মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এভিপি (সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট) হিসেবে কর্মরত। তারা হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।
মাহিরের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন — একজন ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মাহির বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগছি। অনেক সময় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে যেত। কিন্তু মা-বাবা সবসময় পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন। তাদের ভালোবাসা আর আল্লাহর রহমতেই আজ আমি এই ফল করতে পেরেছি। আমি চাই, একদিন ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে, অন্যদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।”
শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহির আরও বলেন,  “আমার ইংরেজি শিক্ষক ইমাম স্যার, হিসাববিজ্ঞানের মীর কাউসার স্যার ও রাশেদ গাজী স্যারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা না পেলে হয়তো এত দূর আসা সম্ভব হতো না।”
তার মা রৌশন ইয়াজদানী আবেগভরে বলেন,  “মাহির ৫ম শ্রেণি থেকেই সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় আমরা ভেবেছি সে হয়তো পড়াশোনায় টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু সে আমাদের ভুল প্রমাণ করেছে। আজকের এই সাফল্য আমাদের সবার জন্য আশীর্বাদ।”
পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া নিয়ে মাহির এখন আরও বড় স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে চায়। তার এই সাফল্য হাজীগঞ্জ তথা চাঁদপুরের শিক্ষাঙ্গনে এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
rk / saif
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

সাই’কোলজিক্যাল সমস্যাকে জয় করে হাজীগঞ্জে জিপিএ-৫ অর্জন মাহিরের

আপডেট : ০৮:০০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানসিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছে হাজীগঞ্জের তরুণ শিক্ষার্থী মাহির ফয়সাল মাহিন। হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের কারিগরি শাখার হিসাববিজ্ঞান (অ্যাকাউন্টিং) ট্রেড থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মাহির সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় ভুগছে। পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা তার জন্য সহজ ছিল না। তবুও কখনও হাল না ছেড়ে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তার এই অধ্যবসায়ের ফলেই এবারে তার বিভাগ থেকে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
তার মা রৌশন ইয়াজদানী হাজীগঞ্জের মাকড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এবং বাবা মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এভিপি (সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট) হিসেবে কর্মরত। তারা হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।
মাহিরের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন — একজন ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মাহির বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগছি। অনেক সময় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে যেত। কিন্তু মা-বাবা সবসময় পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন। তাদের ভালোবাসা আর আল্লাহর রহমতেই আজ আমি এই ফল করতে পেরেছি। আমি চাই, একদিন ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে, অন্যদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।”
শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহির আরও বলেন,  “আমার ইংরেজি শিক্ষক ইমাম স্যার, হিসাববিজ্ঞানের মীর কাউসার স্যার ও রাশেদ গাজী স্যারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা না পেলে হয়তো এত দূর আসা সম্ভব হতো না।”
তার মা রৌশন ইয়াজদানী আবেগভরে বলেন,  “মাহির ৫ম শ্রেণি থেকেই সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় আমরা ভেবেছি সে হয়তো পড়াশোনায় টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু সে আমাদের ভুল প্রমাণ করেছে। আজকের এই সাফল্য আমাদের সবার জন্য আশীর্বাদ।”
পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া নিয়ে মাহির এখন আরও বড় স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে চায়। তার এই সাফল্য হাজীগঞ্জ তথা চাঁদপুরের শিক্ষাঙ্গনে এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
rk / saif