ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জের চালিয়া পাড়ায় চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ: এক পক্ষের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি চেষ্টার অভিযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৫:১২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • 331

 

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের চালিয়াপাড়া গ্রামে চলাচলের পথ একপক্ষের দিকে চাপিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানতে পেরে সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চালিয়াপাড়া গ্রামের সর্দার বাড়ির পশ্চিম-দক্ষিণ কর্ণারে সিরকালিয়া মৌজার বিরোধীয় জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আবু তাহের, মোরশেদ আলম, বোরহান উদ্দিন ও মাহবুব আলম গত বছর মানুরী গ্রামের হাবু মিয়ার মেয়ের জামাই মহিনের কাছ থেকে ১০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। পরে চারদিক বাউন্ডারি পিলার স্থাপন করে তারা জমিটি দখলে রাখেন।

 

অন্যদিকে, মানুরী গ্রামের শফিকুর রহমান খোকা ওই এলাকায় জায়গা ক্রয় করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। পরে তার ছেলে নাছিরের নামে আরও ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, খোকা গং ১৬ শতাংশ ক্রয় করলেও জোরপূর্বক প্রায় ১৯ শতাংশ জায়গা দখলে রেখেছেন। এতে গ্রামের সাধারণ চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং আবু তাহের গংদের ক্রয়কৃত জায়গার অংশকে পথ দাবি করে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

গ্রামবাসীর ভাষ্য, খোকা গং অন্য গ্রাম থেকে এসে একের পর এক জমি ক্রয় করে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে জড়াচ্ছে। লোকমুখে তারা ভূমিদস্যুতার পরিচয়ে পরিচিত।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবু তাহের গং তাদের সম্পত্তির চারপাশে বেড়া দিয়ে রেখেছেন এবং মানুষের চলাচলের জন্য দুই হাত প্রশস্ত পথও ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ খোকা গং কোনো জায়গা না ছাড়ায় চলাচলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী উভয় পক্ষ থেকে দুই হাত করে চার হাত পথ ছেড়ে দিলে গ্রামের মানুষ সহজে ধানসহ প্রয়োজনীয় জিনিস মাথায় করে আনতে পারতেন।

 

স্থানীয় রমজান আলী মিজি বলেন, “জমি কেনার সময়ই আমরা বলেছিলাম, দুই পক্ষ যেন দুই হাত করে পথ ছেড়ে দেয়। আবু তাহের গং তা রেখেছে, কিন্তু খোকা গং দেয়নি। সামনে ধান কাটার সময় মানুষ চলাচলে ভোগান্তিতে পড়বে।”

 

জমির বিক্রেতা হাবু মিয়া জানান, “আমি বিক্রির সময় বলেছিলাম, চলাচলের জন্য দুই হাত জায়গা রাখতে। আবু তাহেররা তা রেখেছে, কিন্তু খোকা গং রাখেনি।”

 

আবু তাহের কাজী বলেন, “আমরা ১০ শতাংশ জমি কিনে নিয়মমতো দখল নিয়ে দুই হাত পথ রেখেছি। খোকা গং ১৬ শতাংশ কিনে ১৯ শতাংশ জায়গা ভোগ করছে। এখন মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আমাদেরকে ভূমিদস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।”

 

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ শফিকুর রহমান খোকা বলেন, “আমরা আগের মতোই সীমানা পর্যন্ত আছি। আবু তাহের গং আরও একটু জায়গা ছাড়লে চলাচলে সমস্যা হবে না।”

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, “আমি উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছি। আবু তাহের গং বসতে রাজি থাকলেও খোকা গং এখনো রাজি হয়নি।”

 

স্থানীয়রা মনে করেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে এ বিরোধের কারণে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

rk / saif

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ফরিদগঞ্জের চালিয়া পাড়ায় চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ: এক পক্ষের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট : ০৫:১২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

 

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের চালিয়াপাড়া গ্রামে চলাচলের পথ একপক্ষের দিকে চাপিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানতে পেরে সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চালিয়াপাড়া গ্রামের সর্দার বাড়ির পশ্চিম-দক্ষিণ কর্ণারে সিরকালিয়া মৌজার বিরোধীয় জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আবু তাহের, মোরশেদ আলম, বোরহান উদ্দিন ও মাহবুব আলম গত বছর মানুরী গ্রামের হাবু মিয়ার মেয়ের জামাই মহিনের কাছ থেকে ১০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। পরে চারদিক বাউন্ডারি পিলার স্থাপন করে তারা জমিটি দখলে রাখেন।

 

অন্যদিকে, মানুরী গ্রামের শফিকুর রহমান খোকা ওই এলাকায় জায়গা ক্রয় করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। পরে তার ছেলে নাছিরের নামে আরও ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, খোকা গং ১৬ শতাংশ ক্রয় করলেও জোরপূর্বক প্রায় ১৯ শতাংশ জায়গা দখলে রেখেছেন। এতে গ্রামের সাধারণ চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং আবু তাহের গংদের ক্রয়কৃত জায়গার অংশকে পথ দাবি করে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

গ্রামবাসীর ভাষ্য, খোকা গং অন্য গ্রাম থেকে এসে একের পর এক জমি ক্রয় করে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে জড়াচ্ছে। লোকমুখে তারা ভূমিদস্যুতার পরিচয়ে পরিচিত।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবু তাহের গং তাদের সম্পত্তির চারপাশে বেড়া দিয়ে রেখেছেন এবং মানুষের চলাচলের জন্য দুই হাত প্রশস্ত পথও ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ খোকা গং কোনো জায়গা না ছাড়ায় চলাচলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী উভয় পক্ষ থেকে দুই হাত করে চার হাত পথ ছেড়ে দিলে গ্রামের মানুষ সহজে ধানসহ প্রয়োজনীয় জিনিস মাথায় করে আনতে পারতেন।

 

স্থানীয় রমজান আলী মিজি বলেন, “জমি কেনার সময়ই আমরা বলেছিলাম, দুই পক্ষ যেন দুই হাত করে পথ ছেড়ে দেয়। আবু তাহের গং তা রেখেছে, কিন্তু খোকা গং দেয়নি। সামনে ধান কাটার সময় মানুষ চলাচলে ভোগান্তিতে পড়বে।”

 

জমির বিক্রেতা হাবু মিয়া জানান, “আমি বিক্রির সময় বলেছিলাম, চলাচলের জন্য দুই হাত জায়গা রাখতে। আবু তাহেররা তা রেখেছে, কিন্তু খোকা গং রাখেনি।”

 

আবু তাহের কাজী বলেন, “আমরা ১০ শতাংশ জমি কিনে নিয়মমতো দখল নিয়ে দুই হাত পথ রেখেছি। খোকা গং ১৬ শতাংশ কিনে ১৯ শতাংশ জায়গা ভোগ করছে। এখন মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আমাদেরকে ভূমিদস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।”

 

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ শফিকুর রহমান খোকা বলেন, “আমরা আগের মতোই সীমানা পর্যন্ত আছি। আবু তাহের গং আরও একটু জায়গা ছাড়লে চলাচলে সমস্যা হবে না।”

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, “আমি উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছি। আবু তাহের গং বসতে রাজি থাকলেও খোকা গং এখনো রাজি হয়নি।”

 

স্থানীয়রা মনে করেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে এ বিরোধের কারণে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

rk / saif