ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাখির খাদ্যের আড়ালে পাকিস্তান থেকে এলো নি”ষিদ্ধ প/পি বীজ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • 287

 

চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা পাখির খাবারের চালানে বিপুল পরিমাণ পপি বীজ (নেশাজাতীয় দ্রব্যের কাঁচামাল) উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমসের তথ্যমতে, চালানটিতে ৩২ টন পাখির খাদ্য আমদানির তথ্য দেখানো হলেও, তল্লাশিতে পাওয়া গেছে ২৫ টন পপি বীজ এবং মাত্র ৭ টন পাখির খাবার।

বুধবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জ এলাকার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদিব ট্রেডিং পাকিস্তান থেকে এই চালানটি আমদানি করে। গত ৯ অক্টোবর দুই কনটেইনারের ওই চালান চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। পরবর্তীতে খালাসের জন্য চালানটি বেসরকারি ডিপো ছাবের আহম্মেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডে নেওয়া হয়।

এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটির খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করে পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেন। ২২ অক্টোবর কনটেইনার দুটি খোলার পর দেখা যায়, এর ভেতরে পাখির খাবারের বস্তার আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পপি বীজ।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চালানটির পণ্য পাকিস্তান থেকে পাঠানোর সময় চতুরতার সঙ্গে কনটেইনারের দরজার মুখে পাখির খাবারের বস্তা সাজিয়ে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। তবে ভেতরের দিকে সযত্নে রাখা হয় পপি বীজের বস্তা।

উদ্ধারকৃত পণ্যের নমুনা তিনটি পৃথক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হয় যে, উদ্ধার করা পদার্থটি পপি বীজ। এটি হেরোইন ও অন্যান্য মাদক তৈরির মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং পণ্য আমদানির নথি, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষায়, “এ ধরনের আমদানির পেছনে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে মাদক বা নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান ঠেকাতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

 

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

পাখির খাদ্যের আড়ালে পাকিস্তান থেকে এলো নি”ষিদ্ধ প/পি বীজ

আপডেট : ০৬:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

 

চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা পাখির খাবারের চালানে বিপুল পরিমাণ পপি বীজ (নেশাজাতীয় দ্রব্যের কাঁচামাল) উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমসের তথ্যমতে, চালানটিতে ৩২ টন পাখির খাদ্য আমদানির তথ্য দেখানো হলেও, তল্লাশিতে পাওয়া গেছে ২৫ টন পপি বীজ এবং মাত্র ৭ টন পাখির খাবার।

বুধবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জ এলাকার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদিব ট্রেডিং পাকিস্তান থেকে এই চালানটি আমদানি করে। গত ৯ অক্টোবর দুই কনটেইনারের ওই চালান চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। পরবর্তীতে খালাসের জন্য চালানটি বেসরকারি ডিপো ছাবের আহম্মেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডে নেওয়া হয়।

এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটির খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করে পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেন। ২২ অক্টোবর কনটেইনার দুটি খোলার পর দেখা যায়, এর ভেতরে পাখির খাবারের বস্তার আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পপি বীজ।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চালানটির পণ্য পাকিস্তান থেকে পাঠানোর সময় চতুরতার সঙ্গে কনটেইনারের দরজার মুখে পাখির খাবারের বস্তা সাজিয়ে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। তবে ভেতরের দিকে সযত্নে রাখা হয় পপি বীজের বস্তা।

উদ্ধারকৃত পণ্যের নমুনা তিনটি পৃথক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হয় যে, উদ্ধার করা পদার্থটি পপি বীজ। এটি হেরোইন ও অন্যান্য মাদক তৈরির মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং পণ্য আমদানির নথি, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষায়, “এ ধরনের আমদানির পেছনে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে মাদক বা নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান ঠেকাতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

 

আরকে/ সাইফ