চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৮৫ সালে। প্রায় এক লক্ষ মানুষের বসবাস এই জনবহুল শহরে। তবে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার চার দশক পার হলেও এখনো গড়ে ওঠেনি ময়লা-আবর্জনা রাখার কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা ডাম্পিং স্টেশন। এতে প্রতিদিনের গৃহস্থালি ও বাজারের আবর্জনা পড়ে থাকছে রাস্তাঘাটের ধারে, সৃষ্টি করছে চরম পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ।
ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় পৌরসভার বাসাবাড়ি ও বাজারের ময়লা ফেলা হচ্ছে হাজীগঞ্জ বাজারের প্রবেশপথে থাকা চারটি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে। এসব জায়গা এখন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। উৎকট দুর্গন্ধ ও পোড়া আবর্জনার ধোঁয়ায় পথচারী ও আশপাশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।
সরজমিনে দেখা গেছে— হাজীগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ধারে বিশাল ময়লার স্তূপ জমেছে। একই চিত্র মিঠুনীয়া ব্রিজের পাশেও। অন্যদিকে কাজিগাঁও ক্রসিং এলাকা এ হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষ বসবাস করতে পারছে না, চলাচল করতেও চরম ভোগান্তিতে পড়ছে পথচারীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন,“আমরা প্রতিদিন দোকান খুলতেই দুর্গন্ধে টিকতে পারি না। সকাল-বিকেল ময়লার গন্ধে ক্রেতারাও দূরে সরে যায়।”
অন্য এক ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ বলেন,“রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, পৌরসভা থেকে স্থায়ী সমাধান জরুরি।”
পৌর এলাকার বিভিন্ন খোলাস্থান ও জনবহুল জায়গায় ময়লা ফেলায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবাণু, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। আশপাশেই রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, ঐতিহ্যবাহী হাজীগঞ্জ বাজার, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কলেজ। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনই নাকে কাপড় চেপে চলাচল করতে হচ্ছে এই এলাকায়।
এক শিক্ষার্থী জানায়,“স্কুলে যেতে হলে প্রতিদিন ময়লার পাশে দিয়ে যেতে হয়। দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়াই কষ্টকর।”
এক পথচারী বলেন,“ এভাবে তো শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন,
“পৌরসভার জনবসতি এলাকায় ময়লা না ফেলে দূরে কোথাও সরকারি জমিতে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কোথায় সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, সে বিষয়ে খোঁজখবর চলছে।”
পৌরবাসীর আশা— প্রশাসনের এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে অবসান হবে হাজীগঞ্জ পৌরসভার দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা সংকটের।




















