ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে গাছ কর্তন নারীসহ দু’জন আহত

  • সুমন আহমেদ
  • আপডেট : ০৬:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 102

Oplus_16908288

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের চারজনের বিরুদ্ধে গাছ কর্তন,  নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় লুৎফা বেগম (৫৫) ও তার ভাইকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনাটি ঘটে রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার মুন্সিরকান্দি এলাকায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাদী লুৎফা বেগম ও প্রতিবেশী বিবাদীদের মধ্যে পৈতৃক জমির সীমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার সময় বাদীর অনুপস্থিতিতে বিবাদীরা তার জমিতে লাগানো ফলজ ও কাঠের চারা কেটে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরে বাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা লাঠি ও রড দিয়ে তাকে মারধর করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় মারধরের এক পর্যায়ে বিবাদী রবিউল্লাহ ও তার ছেলে লিমন বাদীর শ্লীলতাহানি করেন এবং তার কানে থাকা ৮ আনা ওজনের দুই জোড়া সোনার দুল ও গলায় থাকা ৬ আনা ওজনের সোনার চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। বাদীর আর্তচিৎকারে তার ভাই এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

লিখিত অভিযোগে লুৎফা বেগম জানান, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পৈতৃক জমির সীমানা দখলের চেষ্টা করছে। ঘটনাদিনে আমার অনুপস্থিতিতে তারা আমার জমিতে লাগানো ফলজ ও কাঠের গাছ কেটে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। আমি প্রতিবাদ করলে তারা লাঠি ও রড দিয়ে আমাকে মারধর করে। আমার পরনের কাপড় টেনে শ্লীলতাহানি করে এবং আমার কানে থাকা দুই জোড়া সোনার দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমার ভাই আমাকে বাঁচাতে এলে তাকেও মারধর করে আহত করে। আমরা এখন প্রাণের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এই ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রোকসানা জানান, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জমিটি আমাদের মালিকানাধীন। আমরা আমাদের নিজের জমিতে থাকা গাছ পরিষ্কার করতে গেলে তারা বাধা দেয় এবং গালিগালাজ শুরু করে। আমরা কাউকে মারধর করিনি, বরং তারা আমাদের উস্কানি দিচ্ছে। স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই বা শ্লীলতাহানির অভিযোগও সাজানো। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এটি সম্পূর্ণ জমি সংক্রান্ত বিরোধ। মারধর বা ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা আইনকে সম্মান করি এবং তদন্তেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

মতলব উত্তরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে গাছ কর্তন নারীসহ দু’জন আহত

আপডেট : ০৬:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের চারজনের বিরুদ্ধে গাছ কর্তন,  নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় লুৎফা বেগম (৫৫) ও তার ভাইকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনাটি ঘটে রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার মুন্সিরকান্দি এলাকায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাদী লুৎফা বেগম ও প্রতিবেশী বিবাদীদের মধ্যে পৈতৃক জমির সীমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার সময় বাদীর অনুপস্থিতিতে বিবাদীরা তার জমিতে লাগানো ফলজ ও কাঠের চারা কেটে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরে বাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা লাঠি ও রড দিয়ে তাকে মারধর করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় মারধরের এক পর্যায়ে বিবাদী রবিউল্লাহ ও তার ছেলে লিমন বাদীর শ্লীলতাহানি করেন এবং তার কানে থাকা ৮ আনা ওজনের দুই জোড়া সোনার দুল ও গলায় থাকা ৬ আনা ওজনের সোনার চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। বাদীর আর্তচিৎকারে তার ভাই এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

লিখিত অভিযোগে লুৎফা বেগম জানান, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পৈতৃক জমির সীমানা দখলের চেষ্টা করছে। ঘটনাদিনে আমার অনুপস্থিতিতে তারা আমার জমিতে লাগানো ফলজ ও কাঠের গাছ কেটে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। আমি প্রতিবাদ করলে তারা লাঠি ও রড দিয়ে আমাকে মারধর করে। আমার পরনের কাপড় টেনে শ্লীলতাহানি করে এবং আমার কানে থাকা দুই জোড়া সোনার দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমার ভাই আমাকে বাঁচাতে এলে তাকেও মারধর করে আহত করে। আমরা এখন প্রাণের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এই ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রোকসানা জানান, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জমিটি আমাদের মালিকানাধীন। আমরা আমাদের নিজের জমিতে থাকা গাছ পরিষ্কার করতে গেলে তারা বাধা দেয় এবং গালিগালাজ শুরু করে। আমরা কাউকে মারধর করিনি, বরং তারা আমাদের উস্কানি দিচ্ছে। স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই বা শ্লীলতাহানির অভিযোগও সাজানো। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এটি সম্পূর্ণ জমি সংক্রান্ত বিরোধ। মারধর বা ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা আইনকে সম্মান করি এবং তদন্তেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।