আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সহিংস ও উসকানিমূলক কন্টেন্ট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন বানচালের চেষ্টা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার আহ্বানসংবলিত কন্টেন্টের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে Meta–কে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময়ে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সংঘাত উসকে দেওয়া হচ্ছে। এসব অনলাইন বার্তা ও ভিডিও বাস্তব জীবনে সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে, যার ফলে সমাজে আতঙ্ক ও উত্তেজনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব কন্টেন্টের ওপর বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। ভুয়া তথ্য, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং আক্রমণাত্মক প্রচারণা শনাক্ত করে দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মেটার সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে সংঘটিত একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে অনলাইন উসকানি কীভাবে বাস্তব সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাই নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন অত্যন্ত জরুরি
অনলাইন উসকানি ও গুজবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মেটার প্রতি সরকারের আহ্বান
-
ডেস্ক নিউজ - আপডেট : ১২:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- 87
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ




















