ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি সমর্থিত জুনায়েদের বিপক্ষে লড়বেন ব্যারিস্টার রুমিন

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৪:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 123

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাচনি সমঝোতার ফলে জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব প্রার্থী হচ্ছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গত শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমি যা বলি, আমি তা–ই করি। ভালো হোক বা মন্দ হোক—আমি সরাইল–আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করব। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যা–ই হোক।”

তার এই বক্তব্যের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে গুঞ্জন ওঠে—দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এদিকে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। এই সমঝোতার আওতায় যেসব আসনে জমিয়ত প্রার্থী দেবে, সেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। একইভাবে বিএনপির প্রার্থিত আসনগুলোতেও প্রার্থী দেবে না জমিয়ত।

সমঝোতা অনুযায়ী বিএনপি চারটি আসন ছেড়ে দিচ্ছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে। আসনগুলো হলো— নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা): মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা): মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট): মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ): মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব .

তবে নির্বাচনি সমঝোতা থাকলেও জমিয়ত নেতারা বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দলীয় প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। সংশোধনী অনুযায়ী, নির্বাচনি জোট থাকলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে একদিকে বিএনপি–সমর্থিত জমিয়ত প্রার্থী, অন্যদিকে বিএনপির প্রভাবশালী নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা—আসন্ন নির্বাচনে আসনটিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বিএনপি সমর্থিত জুনায়েদের বিপক্ষে লড়বেন ব্যারিস্টার রুমিন

আপডেট : ০৪:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাচনি সমঝোতার ফলে জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব প্রার্থী হচ্ছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গত শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমি যা বলি, আমি তা–ই করি। ভালো হোক বা মন্দ হোক—আমি সরাইল–আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করব। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যা–ই হোক।”

তার এই বক্তব্যের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে গুঞ্জন ওঠে—দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এদিকে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। এই সমঝোতার আওতায় যেসব আসনে জমিয়ত প্রার্থী দেবে, সেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। একইভাবে বিএনপির প্রার্থিত আসনগুলোতেও প্রার্থী দেবে না জমিয়ত।

সমঝোতা অনুযায়ী বিএনপি চারটি আসন ছেড়ে দিচ্ছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে। আসনগুলো হলো— নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা): মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা): মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট): মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ): মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব .

তবে নির্বাচনি সমঝোতা থাকলেও জমিয়ত নেতারা বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দলীয় প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। সংশোধনী অনুযায়ী, নির্বাচনি জোট থাকলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে একদিকে বিএনপি–সমর্থিত জমিয়ত প্রার্থী, অন্যদিকে বিএনপির প্রভাবশালী নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা—আসন্ন নির্বাচনে আসনটিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।