ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্টিয়ারিংয়ের হাতে মানবিকতার ছোঁয়া: ‘ফেমাস রিপন’-এর পথে বদলাচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের ভাবমূর্তি

  • মোঃ ফাহাদ 
  • আপডেট : ০৮:১৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 381
যেখানে পরিবহন শ্রমিকদের নাম এলেই নানা অভিযোগ আর নেতিবাচক ধারণা সামনে আসে, ঠিক সেখানেই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মোঃ রিপন ম একজন সাধারণ বাস ড্রাইভার, কিন্তু মানবিকতায় অসাধারণ। ফরিদগঞ্জ থেকে কক্সবাজার রুটে নিয়মিত গাড়ি চালানো মোঃ রিপন যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকেন সমানভাবে।
যাত্রাপথে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ভবঘুরে, ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া অসহায় মানুষদের দিকে তার দৃষ্টি বারবার থেমে যায়। নিজের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেও তিনি চেষ্টা করেন তাদের পাশে দাঁড়াতে। তার কাছে অন্যের জন্য কিছু করতে পারাই প্রকৃত শান্তির উৎস।
এই মানবিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে তিনি আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘ফেমাস রিপন’ নামে। তবে তার কাছে জনপ্রিয়তার চেয়েও বড় বিষয় হলো—পথের অসহায় মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানো।
 মানবিকতায় বদলাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকদের ভাবমূর্তি মোঃ
রিপন মানবিক উদ্যোগ পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে ভূমিকা রাখছে। তার কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। তিনি প্রমাণ করছেন—চাইলেই একজন চালকও সমাজ পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারেন।
১৬ বছরের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তায় আপসহীন
গত ১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন রুটে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে মোঃ রিপনের। দীর্ঘ এই সময়ে নানা দুর্ঘটনা ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেও তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“কোনো চালকই চায় না তার হাতে দুর্ঘটনা ঘটুক।”
তার কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তা শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং ইমানি দায়িত্ব।
একই পথে সহযাত্রী সুপারভাইজার
রিপন মিয়ার সঙ্গে একই গাড়িতে সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ রবিন। তিনি জানান, রিপন ভাইয়ের মানবিক কাজ দেখে এখন অনেক পরিবহন শ্রমিকই এগিয়ে আসছেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
সবশেষে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া—আল্লাহ যেন মোঃ রিপন মিয়াকে জীবনের বাকি দিনগুলো মেহনতি ও অসহায় মানুষের খেদমতে কবুল করেন।
ফেমাস রিপন আজ শুধু একজন বাস ড্রাইভার নন, তিনি মানবিকতার পথে চলা এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

স্টিয়ারিংয়ের হাতে মানবিকতার ছোঁয়া: ‘ফেমাস রিপন’-এর পথে বদলাচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের ভাবমূর্তি

আপডেট : ০৮:১৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
যেখানে পরিবহন শ্রমিকদের নাম এলেই নানা অভিযোগ আর নেতিবাচক ধারণা সামনে আসে, ঠিক সেখানেই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মোঃ রিপন ম একজন সাধারণ বাস ড্রাইভার, কিন্তু মানবিকতায় অসাধারণ। ফরিদগঞ্জ থেকে কক্সবাজার রুটে নিয়মিত গাড়ি চালানো মোঃ রিপন যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকেন সমানভাবে।
যাত্রাপথে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ভবঘুরে, ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া অসহায় মানুষদের দিকে তার দৃষ্টি বারবার থেমে যায়। নিজের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেও তিনি চেষ্টা করেন তাদের পাশে দাঁড়াতে। তার কাছে অন্যের জন্য কিছু করতে পারাই প্রকৃত শান্তির উৎস।
এই মানবিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে তিনি আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘ফেমাস রিপন’ নামে। তবে তার কাছে জনপ্রিয়তার চেয়েও বড় বিষয় হলো—পথের অসহায় মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানো।
 মানবিকতায় বদলাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকদের ভাবমূর্তি মোঃ
রিপন মানবিক উদ্যোগ পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে ভূমিকা রাখছে। তার কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। তিনি প্রমাণ করছেন—চাইলেই একজন চালকও সমাজ পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারেন।
১৬ বছরের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তায় আপসহীন
গত ১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন রুটে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে মোঃ রিপনের। দীর্ঘ এই সময়ে নানা দুর্ঘটনা ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেও তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“কোনো চালকই চায় না তার হাতে দুর্ঘটনা ঘটুক।”
তার কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তা শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং ইমানি দায়িত্ব।
একই পথে সহযাত্রী সুপারভাইজার
রিপন মিয়ার সঙ্গে একই গাড়িতে সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ রবিন। তিনি জানান, রিপন ভাইয়ের মানবিক কাজ দেখে এখন অনেক পরিবহন শ্রমিকই এগিয়ে আসছেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
সবশেষে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া—আল্লাহ যেন মোঃ রিপন মিয়াকে জীবনের বাকি দিনগুলো মেহনতি ও অসহায় মানুষের খেদমতে কবুল করেন।
ফেমাস রিপন আজ শুধু একজন বাস ড্রাইভার নন, তিনি মানবিকতার পথে চলা এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।