ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে প্রশাসনের নীরব সম্মতিতেই ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি: হুমকির মুখে কৃষি ও পরিবেশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:৩১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 300

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে নীরবে কিন্তু ভয়াবহভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি ও পরিবেশ। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে এক শ্রেণির অসাধু চক্র নির্বিঘ্নে ফসলি জমির উর্বর টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এর ফলে কৃষকের জীবন-জীবিকা যেমন সংকটের মুখে পড়ছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে বিপন্ন হচ্ছে এলাকার কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা ও পরিবেশের ভারসাম্য।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার পূর্ব মাঠে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড সবচেয়ে বেশি সংঘটিত হচ্ছে। দিনের পর দিন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ফসলি জমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে এক মাঠের অধিকাংশ জমি বর্তমানে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

 

এছাড়াও ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন, ১০নং গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন, ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় একইভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শাহদাৎ হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন ও মাইনুদ্দিন খন্দকার নামের কয়েকজন ব্যক্তি কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নামমাত্র দামে জমির মাটি কিনে নিচ্ছেন। পরে সেই মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। সাময়িকভাবে কিছু টাকা পেলেও ভবিষ্যতে কৃষকরা জমিতে কোনো ফসল ফলাতে পারছেন না।

 

একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“একবার জমির মাটি কেটে নিলে সেখানে আর ধান, সবজি—কিছুই হয় না। আমরা বাধা দিলে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।”

 

পরিবেশবিদদের মতে, ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়া একটি গুরুতর পরিবেশগত অপরাধ। এতে মাটির স্বাভাবিক গঠন ধ্বংস হয়, পানি ধারণক্ষমতা কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

 

এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—
প্রশাসন কি এই অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত নয়?
নাকি জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করছে?

 

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে—অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত জমির জরিপ ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি না করা হলে হাজীগঞ্জ উপজেলার কৃষি ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজীনা জাহান জানান,
“আমরা বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে প্রশাসনের নীরব সম্মতিতেই ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি: হুমকির মুখে কৃষি ও পরিবেশ

আপডেট : ০৬:৩১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে নীরবে কিন্তু ভয়াবহভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি ও পরিবেশ। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে এক শ্রেণির অসাধু চক্র নির্বিঘ্নে ফসলি জমির উর্বর টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এর ফলে কৃষকের জীবন-জীবিকা যেমন সংকটের মুখে পড়ছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে বিপন্ন হচ্ছে এলাকার কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা ও পরিবেশের ভারসাম্য।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার পূর্ব মাঠে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড সবচেয়ে বেশি সংঘটিত হচ্ছে। দিনের পর দিন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ফসলি জমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে এক মাঠের অধিকাংশ জমি বর্তমানে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

 

এছাড়াও ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন, ১০নং গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন, ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় একইভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শাহদাৎ হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন ও মাইনুদ্দিন খন্দকার নামের কয়েকজন ব্যক্তি কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নামমাত্র দামে জমির মাটি কিনে নিচ্ছেন। পরে সেই মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। সাময়িকভাবে কিছু টাকা পেলেও ভবিষ্যতে কৃষকরা জমিতে কোনো ফসল ফলাতে পারছেন না।

 

একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“একবার জমির মাটি কেটে নিলে সেখানে আর ধান, সবজি—কিছুই হয় না। আমরা বাধা দিলে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।”

 

পরিবেশবিদদের মতে, ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়া একটি গুরুতর পরিবেশগত অপরাধ। এতে মাটির স্বাভাবিক গঠন ধ্বংস হয়, পানি ধারণক্ষমতা কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

 

এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—
প্রশাসন কি এই অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত নয়?
নাকি জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করছে?

 

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে—অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত জমির জরিপ ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি না করা হলে হাজীগঞ্জ উপজেলার কৃষি ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজীনা জাহান জানান,
“আমরা বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”