ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর-৫ আসনে শিক্ষকদের দিয়ে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • 837

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলেছে একাধিক রাজনৈতিক দল ও সচেতন মহল।

অভিযোগে বলা হয়, শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রকাশ্যে হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক ও পথসভায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫–এর ২০(খ) বিধি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এ নির্দেশনা অমান্য করলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

জানা যায়, চাঁদপুর-৫ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আবুল হোসাইন–এর পক্ষে শাহরাস্তি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, আবুল বাশার ও ইকবাল হোসেনসহ একাধিক শিক্ষক সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় জড়িত রয়েছেন। এছাড়াও রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা মাঈনুদ্দীন, পরানপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মঞ্জুর হোসেন, সহকারী মৌলভী আনোয়ার হোসেন ও মনির হোসেন, ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও তাফাজ্জল হোসেন এবং দৈয়ারা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মাওলানা মাছুম বিল্লাহসহ শতাধিক শিক্ষক নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী অভিযোগ করে বলেন, “শুধু শিক্ষকরা নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হচ্ছেন তা নয়, শাহরাস্তি মডেল স্কুল নামের একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেখান থেকেই সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি ক্লাস চলাকালীন সময়েও শিক্ষকরা নির্বাচনী কাজে যুক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে।”

এদিকে, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ–এর প্রার্থী মাহমুদ হাসান নয়ন বলেন, “জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা আগেই বলেছেন শিক্ষকরা তাদের পক্ষে কাজ করবেন। বর্তমানে ধর্ম ও কালেমার দোহাই দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, “ইতোমধ্যে শিক্ষকদের আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। যদি কেউ বিধি বহির্ভূতভাবে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন মহল মনে করছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

চাঁদপুর-৫ আসনে শিক্ষকদের দিয়ে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ

আপডেট : ০৯:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলেছে একাধিক রাজনৈতিক দল ও সচেতন মহল।

অভিযোগে বলা হয়, শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রকাশ্যে হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক ও পথসভায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫–এর ২০(খ) বিধি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এ নির্দেশনা অমান্য করলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

জানা যায়, চাঁদপুর-৫ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আবুল হোসাইন–এর পক্ষে শাহরাস্তি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, আবুল বাশার ও ইকবাল হোসেনসহ একাধিক শিক্ষক সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় জড়িত রয়েছেন। এছাড়াও রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা মাঈনুদ্দীন, পরানপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মঞ্জুর হোসেন, সহকারী মৌলভী আনোয়ার হোসেন ও মনির হোসেন, ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও তাফাজ্জল হোসেন এবং দৈয়ারা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মাওলানা মাছুম বিল্লাহসহ শতাধিক শিক্ষক নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী অভিযোগ করে বলেন, “শুধু শিক্ষকরা নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হচ্ছেন তা নয়, শাহরাস্তি মডেল স্কুল নামের একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেখান থেকেই সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি ক্লাস চলাকালীন সময়েও শিক্ষকরা নির্বাচনী কাজে যুক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে।”

এদিকে, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ–এর প্রার্থী মাহমুদ হাসান নয়ন বলেন, “জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা আগেই বলেছেন শিক্ষকরা তাদের পক্ষে কাজ করবেন। বর্তমানে ধর্ম ও কালেমার দোহাই দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, “ইতোমধ্যে শিক্ষকদের আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। যদি কেউ বিধি বহির্ভূতভাবে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন মহল মনে করছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।