ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ লক্ষাধিক মানুষের জন্য মাত্র ৪ চিকিৎসক

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই এখন ‘অসুস্থ’। ৫০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও হাসপাতালটি কাগজে-কলমে এখনো ৩১ শয্যায় খুঁড়িয়ে চলছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, বিশাল এই জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে গত ১৬ বছরের মধ্যে ১৪ বছরই কোনো গাইনি ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ছিল না। ১০টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৪ জন দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা।

হাসপাতালের একমাত্র এনালগ এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এটি পরিচালনার জন্য কোনো টেকনিশিয়ানও নেই। একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি প্রায়ই বিকল থাকে, আর বর্তমানে কোনো চালকও নেই। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৪টি পদের মধ্যে ৩টিই শূন্য। ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জায়গায় আছেন মাত্র ২ জন। ফলে হাসপাতালের পরিবেশ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি, সার্জারি, এনেস্থেসিয়া, মেডিসিন ও ডেন্টাল) পদের সবকটিই শূন্য। এর ফলে প্রসূতি মায়েরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। সিজারিয়ান বা জটিল ডেলিভারির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে স্বজনদের প্রাইভেট ক্লিনিকে ছুটতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর কর্মস্থলেই থাকার কথা থাকলেও তিনি থাকেন নোয়াখালীতে। সপ্তাহে মাত্র ৫ দিন নোয়াখালী থেকে এসে অফিস করেন এবং দিনশেষে আবার ফিরে যান। অনেক সময় সপ্তাহে ৫ দিনও তাঁকে পাওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা ল্যামছড়ি এলাকার খাদিজা আক্তার বলেন, “বিনা পয়সায় ডাক্তার দেখাইতে আইছি, কিন্তু ডাক্তার পাই না। ওষুধও আগের মতো দেয় না। এক্স-রে করাইতে দিছে কিন্তু মেশিন নাকি নষ্ট। এটা কি গরিবের হাসপাতাল নাকি তামাশা?”

উপজেলা ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ’ কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী এ অবস্থায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “হাসপাতালের এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত জনবল ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হবে।” তবে আরএমও-র অনুপস্থিতির বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

স্থানীয়দের দাবি, অনতিবিলম্বে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে এবং অকেজো যন্ত্রপাতি মেরামত করে উপজেলার ৪ লাখ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ লক্ষাধিক মানুষের জন্য মাত্র ৪ চিকিৎসক

আপডেট : ০৭:২২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই এখন ‘অসুস্থ’। ৫০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও হাসপাতালটি কাগজে-কলমে এখনো ৩১ শয্যায় খুঁড়িয়ে চলছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, বিশাল এই জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে গত ১৬ বছরের মধ্যে ১৪ বছরই কোনো গাইনি ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ছিল না। ১০টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৪ জন দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা।

হাসপাতালের একমাত্র এনালগ এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এটি পরিচালনার জন্য কোনো টেকনিশিয়ানও নেই। একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি প্রায়ই বিকল থাকে, আর বর্তমানে কোনো চালকও নেই। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৪টি পদের মধ্যে ৩টিই শূন্য। ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জায়গায় আছেন মাত্র ২ জন। ফলে হাসপাতালের পরিবেশ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি, সার্জারি, এনেস্থেসিয়া, মেডিসিন ও ডেন্টাল) পদের সবকটিই শূন্য। এর ফলে প্রসূতি মায়েরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। সিজারিয়ান বা জটিল ডেলিভারির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে স্বজনদের প্রাইভেট ক্লিনিকে ছুটতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর কর্মস্থলেই থাকার কথা থাকলেও তিনি থাকেন নোয়াখালীতে। সপ্তাহে মাত্র ৫ দিন নোয়াখালী থেকে এসে অফিস করেন এবং দিনশেষে আবার ফিরে যান। অনেক সময় সপ্তাহে ৫ দিনও তাঁকে পাওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা ল্যামছড়ি এলাকার খাদিজা আক্তার বলেন, “বিনা পয়সায় ডাক্তার দেখাইতে আইছি, কিন্তু ডাক্তার পাই না। ওষুধও আগের মতো দেয় না। এক্স-রে করাইতে দিছে কিন্তু মেশিন নাকি নষ্ট। এটা কি গরিবের হাসপাতাল নাকি তামাশা?”

উপজেলা ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ’ কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী এ অবস্থায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “হাসপাতালের এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত জনবল ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হবে।” তবে আরএমও-র অনুপস্থিতির বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

স্থানীয়দের দাবি, অনতিবিলম্বে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে এবং অকেজো যন্ত্রপাতি মেরামত করে উপজেলার ৪ লাখ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।