ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জ–শাহারাস্তি আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • 627

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ ও শাহারাস্তি) নির্বাচনি এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুইজন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নোটিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিটি চাঁদপুর-৫ নির্বাচনি এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের আলামত তাদের নজরে আসে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারি তার ছবি ও হাতপাখা প্রতীক সংবলিত রঙিন পোস্টার দেয়ালে ব্যবহার করেছেন।

পোস্টারগুলোতে লেখা ছিল, “আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারি-কে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিন।” কমিটির পরিদর্শনকালে হাজীগঞ্জ ও শাহারাস্তি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের একাধিক পোস্টার দেখা যায়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৭(ক) বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। যা বিধিমালার ২৭ বিধি এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯১খ(৩)(ক) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি তার ছবি ও ধানের শীষ প্রতীক সংবলিত রঙিন প্লাস্টিকের ফেস্টুন গাছে সাঁটিয়েছেন। ফেস্টুনে লেখা ছিল, “জনাব ইঞ্জিঃ মমিনুল হক ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন।” পরিদর্শনকালে নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের একাধিক ফেস্টুন কমিটির নজরে আসে। এটি আচরণবিধির ৭(খ) ও ৭(গ) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অপরাধও বিধিমালার ২৭ বিধি এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১খ(৩)(ক) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অপরাধ আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না কিংবা পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে লিখিত সুপারিশসহ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না— সে বিষয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারিকে আগামী ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার দুপুর ১২টায় এবং ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হককে একই দিন সকাল ১১টায় হাজীগঞ্জ সিভিল জজ আদালত, চাঁদপুরে অবস্থিত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে নিজে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বক্তব্য ব্যতিরেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আচরণবিধির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনি আচরণবিধির প্রতি সব প্রার্থীর সমানভাবে শ্রদ্ধাশীল হওয়াই গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এ নোটিশের পর প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা কার্যক্রমে আরও সতর্ক ভূমিকা পালন করবেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জ–শাহারাস্তি আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আপডেট : ০৮:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ ও শাহারাস্তি) নির্বাচনি এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুইজন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নোটিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিটি চাঁদপুর-৫ নির্বাচনি এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের আলামত তাদের নজরে আসে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারি তার ছবি ও হাতপাখা প্রতীক সংবলিত রঙিন পোস্টার দেয়ালে ব্যবহার করেছেন।

পোস্টারগুলোতে লেখা ছিল, “আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারি-কে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিন।” কমিটির পরিদর্শনকালে হাজীগঞ্জ ও শাহারাস্তি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের একাধিক পোস্টার দেখা যায়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৭(ক) বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। যা বিধিমালার ২৭ বিধি এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯১খ(৩)(ক) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি তার ছবি ও ধানের শীষ প্রতীক সংবলিত রঙিন প্লাস্টিকের ফেস্টুন গাছে সাঁটিয়েছেন। ফেস্টুনে লেখা ছিল, “জনাব ইঞ্জিঃ মমিনুল হক ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন।” পরিদর্শনকালে নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের একাধিক ফেস্টুন কমিটির নজরে আসে। এটি আচরণবিধির ৭(খ) ও ৭(গ) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অপরাধও বিধিমালার ২৭ বিধি এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১খ(৩)(ক) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অপরাধ আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না কিংবা পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে লিখিত সুপারিশসহ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না— সে বিষয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারিকে আগামী ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার দুপুর ১২টায় এবং ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হককে একই দিন সকাল ১১টায় হাজীগঞ্জ সিভিল জজ আদালত, চাঁদপুরে অবস্থিত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে নিজে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বক্তব্য ব্যতিরেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আচরণবিধির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনি আচরণবিধির প্রতি সব প্রার্থীর সমানভাবে শ্রদ্ধাশীল হওয়াই গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এ নোটিশের পর প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা কার্যক্রমে আরও সতর্ক ভূমিকা পালন করবেন।