ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক কেন মন্ত্রিত্বের ন্যায্য দাবিদার

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:৫৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 365

 

হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি দুই উপজেলা এবং দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ সংসদীয় আসন। এই জনপদের ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে এক সম্ভ্রান্ত ও সুশিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর আদর্শে বিশ্বাসী থেকে মাঠে সংগ্রাম করেছেন।

পর্যায়ক্রমে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চাঁদপুর জেলা শাখার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা বিএনপির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি-র সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নেতৃত্ব, সংগঠন পরিচালনা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সংকট দেখা দিলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে তার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। সেই আস্থা ছিল তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সততা ও দলের প্রতি নিবেদনের স্বীকৃতি। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি প্রতিকূলতা, মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। সংকটের সময়ে তিনি বটবৃক্ষের মতো সংগঠনকে আগলে রেখেছেন।

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিহিংসার পরিবর্তে শৃঙ্খলা ও শান্তির বার্তা দিয়ে কর্মীদের সংযত থাকতে আহ্বান জানান, ফলে এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

ভোটের রাজনীতিতেও তার শক্ত অবস্থান স্পষ্ট। ২০০৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি সারাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত হয়েও পরাজিত হন। ২০১৪ সালে দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে সীমিত ভোটগ্রহণের মধ্যেও তিনি ৩৫ হাজার ভোট লাভ করেন, পরে দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন বয়কট করা হয়। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা বিভাগ-এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এবং ১৫৮টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোতেই বিপুল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন—যা তার দীর্ঘদিনের জনসংযোগ, সততা ও মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

আজ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির সাধারণ মানুষের মুখে একটি প্রত্যাশা উচ্চারিত হচ্ছে—চাঁদপুর জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন একজন নিরহংকারী, পরোপকারী, ভদ্র ও ক্লিন ইমেজের শিক্ষিত নেতা। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও সাহসী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সৈনিক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সেই দাবির স্বাভাবিক ও ন্যায্য দাবিদার।

এই দাবি কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়; এটি হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মানুষের স্বপ্ন, উন্নয়ন প্রত্যাশা এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। একজন অভিজ্ঞ সংগঠক, পরীক্ষিত নেতা ও জনগণের আস্থাভাজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেলে জেলা ও বিভাগের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন—এমনটাই বিশ্বাস এলাকার সচেতন মানুষের।

বিঃদ্রঃ তথ্যগত কোনো ভুল থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী; সীমিত পরিসরে সব তথ্য তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

লেখক
মোঃ জুয়েল রানা তালুকদার
সাবেক সদস্য সচিব
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক কেন মন্ত্রিত্বের ন্যায্য দাবিদার

আপডেট : ১১:৫৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি দুই উপজেলা এবং দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ সংসদীয় আসন। এই জনপদের ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে এক সম্ভ্রান্ত ও সুশিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর আদর্শে বিশ্বাসী থেকে মাঠে সংগ্রাম করেছেন।

পর্যায়ক্রমে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চাঁদপুর জেলা শাখার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা বিএনপির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি-র সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নেতৃত্ব, সংগঠন পরিচালনা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সংকট দেখা দিলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে তার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। সেই আস্থা ছিল তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সততা ও দলের প্রতি নিবেদনের স্বীকৃতি। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি প্রতিকূলতা, মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। সংকটের সময়ে তিনি বটবৃক্ষের মতো সংগঠনকে আগলে রেখেছেন।

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিহিংসার পরিবর্তে শৃঙ্খলা ও শান্তির বার্তা দিয়ে কর্মীদের সংযত থাকতে আহ্বান জানান, ফলে এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

ভোটের রাজনীতিতেও তার শক্ত অবস্থান স্পষ্ট। ২০০৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি সারাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত হয়েও পরাজিত হন। ২০১৪ সালে দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে সীমিত ভোটগ্রহণের মধ্যেও তিনি ৩৫ হাজার ভোট লাভ করেন, পরে দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন বয়কট করা হয়। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা বিভাগ-এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এবং ১৫৮টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোতেই বিপুল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন—যা তার দীর্ঘদিনের জনসংযোগ, সততা ও মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

আজ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির সাধারণ মানুষের মুখে একটি প্রত্যাশা উচ্চারিত হচ্ছে—চাঁদপুর জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন একজন নিরহংকারী, পরোপকারী, ভদ্র ও ক্লিন ইমেজের শিক্ষিত নেতা। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও সাহসী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সৈনিক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সেই দাবির স্বাভাবিক ও ন্যায্য দাবিদার।

এই দাবি কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়; এটি হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মানুষের স্বপ্ন, উন্নয়ন প্রত্যাশা এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। একজন অভিজ্ঞ সংগঠক, পরীক্ষিত নেতা ও জনগণের আস্থাভাজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেলে জেলা ও বিভাগের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন—এমনটাই বিশ্বাস এলাকার সচেতন মানুষের।

বিঃদ্রঃ তথ্যগত কোনো ভুল থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী; সীমিত পরিসরে সব তথ্য তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

লেখক
মোঃ জুয়েল রানা তালুকদার
সাবেক সদস্য সচিব
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল