ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, নাকি আ’ত্ম’হ’ত্যা; রাবেয়ার মৃ’ত্যু’র পেছনে কী?

  • সুমন আহমেদ
  • আপডেট : ০৯:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • 91

মতলব উত্তর উপজেলার চন্দ্রাকান্দি গ্রামের গৃহবধূ রাবেয়া আক্তার (২৫)-এর মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য ও নানা প্রশ্ন। এটি নিছক আত্মহত্যা, নাকি দীর্ঘদিনের যৌতুক নির্যাতনের করুণ পরিণতি তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

গত ২৪ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের চাঁন্দ্রাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বললেও, নিহতের পরিবারের দাবি এটি প্ররোচিত মৃত্যু।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্যে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে একই এলাকার শাহ আলম (৩২) এর সঙ্গে রাবেয়ার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের শুরুটা স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ।

আরেকটি সূত্রে জানা যায়, স্বামী শাহ আলমের পরকীয়ার বিষয়টি রাবেয়া আক্তারের জানা ছিল। এ নিয়ে সংসারে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অশান্তি চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর তিনি গভীরভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সেই হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের মা জেসমিন আক্তার বলেন, মেয়ের সুখের কথা ভেবে বারবার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র দিয়েছি। তারপরও নির্যাতন থামেনি।

এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়েছে। সালিশে নির্যাতন বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেয়েটা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের মধ্যে ছিল। আমরা কয়েকবার বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পরিবারের দাবি, ঘটনার দিনও রাবেয়ার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি বসতঘরের ভেতরে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নেন। তবে প্রতিবেশীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ঘরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন, যা ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে স্বামী শাহ আলমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারায় মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৭)। মামলায় অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে শাশুড়ি সাজেদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও, পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, নাকি আ’ত্ম’হ’ত্যা; রাবেয়ার মৃ’ত্যু’র পেছনে কী?

আপডেট : ০৯:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মতলব উত্তর উপজেলার চন্দ্রাকান্দি গ্রামের গৃহবধূ রাবেয়া আক্তার (২৫)-এর মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য ও নানা প্রশ্ন। এটি নিছক আত্মহত্যা, নাকি দীর্ঘদিনের যৌতুক নির্যাতনের করুণ পরিণতি তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

গত ২৪ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের চাঁন্দ্রাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বললেও, নিহতের পরিবারের দাবি এটি প্ররোচিত মৃত্যু।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্যে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে একই এলাকার শাহ আলম (৩২) এর সঙ্গে রাবেয়ার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের শুরুটা স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ।

আরেকটি সূত্রে জানা যায়, স্বামী শাহ আলমের পরকীয়ার বিষয়টি রাবেয়া আক্তারের জানা ছিল। এ নিয়ে সংসারে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অশান্তি চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর তিনি গভীরভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সেই হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের মা জেসমিন আক্তার বলেন, মেয়ের সুখের কথা ভেবে বারবার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র দিয়েছি। তারপরও নির্যাতন থামেনি।

এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়েছে। সালিশে নির্যাতন বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেয়েটা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের মধ্যে ছিল। আমরা কয়েকবার বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পরিবারের দাবি, ঘটনার দিনও রাবেয়ার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি বসতঘরের ভেতরে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নেন। তবে প্রতিবেশীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ঘরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন, যা ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে স্বামী শাহ আলমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারায় মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৭)। মামলায় অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে শাশুড়ি সাজেদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও, পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।