ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরের এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১৩০ পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের এখলাছপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসবাসকারীরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। ২০০৫ সালে ছিন্নমূল পরিবারের বসবাসের জন্য  সেনাবাহিনীর তত্ত্ববধানে গড়ে তোলা হয়েছিল আশ্রায়ণ প্রকল্প। নানা বিপর্যয়ে জর্জরিত সহায় সম্বলহীন মানুষ গুলোর বেঁচে থাকার ঠাঁই হয়েছে এখানে। এই আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রতিষ্ঠার প্রায় ২ যুগ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার মানুষগুলো পাননি বেঁচে থাকার পরিপূর্ণ জীবন।
জানা গেছে, এখলাছপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় ২০০৫ সালের দিকে বিএনপি সরকারের আমলে ৫০টি ও ১৯৯৮-৯৯ সালে ৮০টি পরিবারের জন্য আশ্রায়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের অদ্যবধি আবাসনের অবকাঠামো সংস্কার ও মেরামত না করায় জরাজীর্ণ ভাঙ্গাচোরা ঘরে অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৩০ পরিবারের জন্য নির্মিত আবাসনের ঘর গুলোর বেশিরভাগ ছাউনি, বেড়া, দরজা, জানালা নষ্ট হয়ে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাঁচার আকুতিতে জরাজীর্ণ ঘরের চালে পলিথিন, ঘরের বেড়ায় পুরনো কাপড় দিয়ে কোন রকমে বসবাস করছেন। সামান্য বৃষ্টি এলে তাদের ভিজিয়ে গিয়ে ঘুম হারাম হয়ে যায়। আবাসনের টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেলে নিজেদের অর্থই ঠিক করে নিতে হয়। টয়লেটের অবস্থাটাও একইরকম। বর্ষাকালে এখানকার বাসিন্দাদের দুর্দশার অন্ত থাকে না। পরিবার-পরিজন, গৃহপালিত পশু নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। তাদের জন্য অন্য কোন কর্মসংস্থান না থাকায় চরম দারিদ্র আর অভাবের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেন আবাসনের বাসিন্দারা।
আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসকারীরা জানান, নির্মাণের পর সংস্কার না করায় বেশিরভাগ ঘর গুলোর টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতে হিমহিম বাতাস আর বর্ষাকালে ঝড়বৃষ্টিতে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা রামপ্রশাদ জানান, জায়গা জমি নাই তাই ঠাঁই হয় এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সংস্কার না করায় এখানে বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোলেমান জানান, গৃহহীনদের ঘরবাড়ি তৈরী করে দিচ্ছে অথচ ২০ বছর আগে আশ্রয়ন প্রকল্পে মাথা গোঁজার ঠাঁই টুুকু করে দিয়ে অধ্যবধি কেউ আর আমাদের কোন রকমের খোঁজ খবর নেয়নি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের হারুন বাদশা জানান, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে মাথা গোঁজার ভাঙ্গাচোরা ঘর। এগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে অনেক ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই। একারণে আশ্রয়নের অনেক বাসিন্দা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে।
আরকে/ সাইফ
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

মতলব উত্তরের এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১৩০ পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

আপডেট : ০৬:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের এখলাছপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসবাসকারীরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। ২০০৫ সালে ছিন্নমূল পরিবারের বসবাসের জন্য  সেনাবাহিনীর তত্ত্ববধানে গড়ে তোলা হয়েছিল আশ্রায়ণ প্রকল্প। নানা বিপর্যয়ে জর্জরিত সহায় সম্বলহীন মানুষ গুলোর বেঁচে থাকার ঠাঁই হয়েছে এখানে। এই আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রতিষ্ঠার প্রায় ২ যুগ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার মানুষগুলো পাননি বেঁচে থাকার পরিপূর্ণ জীবন।
জানা গেছে, এখলাছপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় ২০০৫ সালের দিকে বিএনপি সরকারের আমলে ৫০টি ও ১৯৯৮-৯৯ সালে ৮০টি পরিবারের জন্য আশ্রায়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের অদ্যবধি আবাসনের অবকাঠামো সংস্কার ও মেরামত না করায় জরাজীর্ণ ভাঙ্গাচোরা ঘরে অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৩০ পরিবারের জন্য নির্মিত আবাসনের ঘর গুলোর বেশিরভাগ ছাউনি, বেড়া, দরজা, জানালা নষ্ট হয়ে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাঁচার আকুতিতে জরাজীর্ণ ঘরের চালে পলিথিন, ঘরের বেড়ায় পুরনো কাপড় দিয়ে কোন রকমে বসবাস করছেন। সামান্য বৃষ্টি এলে তাদের ভিজিয়ে গিয়ে ঘুম হারাম হয়ে যায়। আবাসনের টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেলে নিজেদের অর্থই ঠিক করে নিতে হয়। টয়লেটের অবস্থাটাও একইরকম। বর্ষাকালে এখানকার বাসিন্দাদের দুর্দশার অন্ত থাকে না। পরিবার-পরিজন, গৃহপালিত পশু নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। তাদের জন্য অন্য কোন কর্মসংস্থান না থাকায় চরম দারিদ্র আর অভাবের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেন আবাসনের বাসিন্দারা।
আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসকারীরা জানান, নির্মাণের পর সংস্কার না করায় বেশিরভাগ ঘর গুলোর টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতে হিমহিম বাতাস আর বর্ষাকালে ঝড়বৃষ্টিতে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা রামপ্রশাদ জানান, জায়গা জমি নাই তাই ঠাঁই হয় এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সংস্কার না করায় এখানে বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোলেমান জানান, গৃহহীনদের ঘরবাড়ি তৈরী করে দিচ্ছে অথচ ২০ বছর আগে আশ্রয়ন প্রকল্পে মাথা গোঁজার ঠাঁই টুুকু করে দিয়ে অধ্যবধি কেউ আর আমাদের কোন রকমের খোঁজ খবর নেয়নি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের হারুন বাদশা জানান, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে মাথা গোঁজার ভাঙ্গাচোরা ঘর। এগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে অনেক ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই। একারণে আশ্রয়নের অনেক বাসিন্দা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে।
আরকে/ সাইফ