বিশ্বকাপ জিতেছেন, দুবার জিতেছেন গোল্ডেন বল। ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্যের প্রায় সব অর্জনই রয়েছে তার ঝুলিতে। তবুও একটি অপূর্ণতা যেন রয়ে গিয়েছিল। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেটিও পূরণ করলেন লিওনেল মেসি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দিয়েছেন এই মহাতারকা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে এসেছেন তিনি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে এখন দুজনেরই গোল সংখ্যা ১৬।
এত বড় অর্জনের পরও মেসির কণ্ঠে ছিল বিনয় আর আবেগের ছোঁয়া। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন,
“আমার পরিবার, সতীর্থ এবং যারা সব সময় আমার পাশে থাকে, তাদের সঙ্গে এই মুহূর্তটি উপভোগ করতে পারা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা।”
২০২২ সালে কাতারে ৩৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই অধিনায়ক মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিক সেই স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট মেসি বলেন,
“আমাদের দলটি খুবই গোছানো ও শক্তিশালী। ব্যক্তিগতভাবেও আমি ভালো অনুভব করছি। প্রথম ম্যাচ সব সময়ই কঠিন হয়। সৌভাগ্যবশত আমরা জয় দিয়ে শুরু করতে পেরেছি। টুর্নামেন্টের শুরুটা জয়ে হওয়া সব সময় গুরুত্বপূর্ণ।”
ম্যাচজুড়ে গ্যালারি কাঁপানো আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। মেসির ভাষায়,
“আমি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আবারও প্রমাণ করেছেন, আর্জেন্টিনা ফুটবলকে তারা কতটা ভালোবাসেন।”
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো মেসি যেন আবারও জানিয়ে দিলেন— বয়স কেবল একটি সংখ্যা, আর ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি এখনও আলো ছড়াতে জানে আগের মতোই।




















