চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় এক উদ্যোগের মাধ্যমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছেন। সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যক্তিগত প্রচারণার পরিবর্তে দায়িত্ব ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজে নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে স্থাপিত নামফলকে উদ্বোধকের ব্যক্তিগত নাম উল্লেখ না করে শুধু লেখা হয়— “মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়, সংসদীয় আসন-২৬৪, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি)”।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক, সেতু, ভবন কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী ফলকে জনপ্রতিনিধিদের নাম ও পরিচিতি বড় আকারে প্রদর্শনের প্রবণতা দেখা গেলেও, সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নিজের নামের পরিবর্তে দায়িত্ব ও পদমর্যাদাকে প্রাধান্য দেওয়ার এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক সৌজন্য, বিনয় ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
এর আগে একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ঘোষণা দেন, সরকারি উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্পের নামফলকে তার ব্যক্তিগত নাম ব্যবহার করা যাবে না।
তিনি বলেন, “আজ এই মুহূর্ত থেকে সরকারি উন্নয়নমূলক যেকোনো প্রকল্পের নামফলকে আমার নাম থাকবে না। এটি আমার নির্দেশ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় করা কাজে আমার নাম থাকবে কেন? এটা হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়ন জনগণের অর্থে এবং জনগণের কল্যাণের জন্য করা হয়। একটি ভবন, সড়ক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির নামের চেয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি আমার কাজকে মনে রাখে, সেটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। নামফলকে নিজের নাম থাকুক বা না থাকুক, জনসেবার দায়িত্ব পালনে আমি সবসময় আন্তরিক থাকবো।”
রাজনীতিতে ব্যক্তিপূজার চেয়ে দায়িত্ববোধ, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমি চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যক্তির নয়, জনগণের সম্পদ হিসেবে দেখুক।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরিচয় তাঁর কর্ম ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। নামফলকে ব্যক্তিগত প্রচারণার পরিবর্তে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ায় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সাধারণ মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক টিটু বলেন, “এটি বিনয়, সৌজন্য এবং জনসেবামুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এ ধরনের মানসিকতা বৃদ্ধি পেলে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও দায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নামফলকে নিজের নাম ব্যবহার না করে পদ ও দায়িত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বিনয়ের এক অনন্য নজির হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
নামফলকে নয়, মানুষের হৃদয়ে থাকতে চান এমপি মমিনুল হক
-
শাখাওয়াত হোসেন শামীম - আপডেট : ০৭:১৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- 79
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ




















