হাজীগঞ্জ বাজারস্থ শাহমিরান হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় সিজারিয়ান অপারেশনে প্রসূতির মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হসপিটাল ভাংচুর’সহ শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এসময় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও বিএনপির দলীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত করেন।
মারা যাওয়া লামিয়া আক্তার তুবা (২১) উপজেলার হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া গ্রামের বেপারী বাড়ির ওমান প্রবাসী মো. পারভেজ হোসেনের স্ত্রী এবং একই গ্রামের মিজি বাড়ির মো. লিটন হোসেন মিয়াজি ও মা ফাতেমা বেগম পাখি আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে।
তুবার বাবা ও মা’সহ হসপিটালে থাকা স্বজনদের দাবী ও অভিযোগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সিজারিয়ান অপারেশন না করা এবং অপারেশনের সময় চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তুবার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, পারভেজ ও তুবা দম্পতির প্রথম সন্তান জন্মের লক্ষ্যে শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ শাহমিরান হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। এরপর সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান জন্ম দেন তুবা। এরপর বেডে আনার তুবার শরীর ঠান্ডা (শীতল) দেখে তার খালা ডাক-চিৎকার শুরু করেন।
পরে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য তাকে আবারো অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কিন্তু তুবার সাথে হসপিটালে থাকা তার মা ও খালা অভিযোগ করে জানান, অপারেশন থিয়েটারেই তুবা মারা গেছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার (চিকিৎসক) অপারেশন না করায় এবং চিকিৎসায় ভুল ও গাফিলতির কারণে তুবা মারা গেছে।
এরপর নিহত তুবার স্বজনরা হসপিটালে অফিসে এসে ভাংচুর শুরু করেন। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জসহ সঙ্গীয় ফোর্স, বিএনপি নেতা মনির খাঁন, সরোয়ার হোসেন ভুলু মুন্সী, মোশাররফ হোসেন স্বপন, এমরান হোসেন, মিজানুর রহমান সেলিম, বিল্লাল পাটওয়ারীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ হসপিটালে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত করেন।
এসময় তদন্তপূর্বক সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিচার করা হবে বলে উপস্থিত সংশ্লিষ্টরা জানান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে হসপিটালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ডা. একে আজাদ, রোগীর এটা প্রথম কেস। সুস্থ রোগীকে ডেলিভারীর পরে ওয়ার্ডে দেয়া হয়েছে। আড়াই ঘন্টা পরে রোগী বাচ্ছাকে দুধ দিয়েছে। তারপরে হঠাৎ করে কি হয়েছে, আমরা বুঝতে পারিনি। তবে ধারনা করা হচ্ছে, রোগী হার্টের সমস্যা হতে পারে।
জেলা বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, রাতে এ্যা¤ু^লেন্সে করে লাশ নিয়ে গেছে। তবে কি কারনে বা কার ভূলে প্রসুতির মৃত্যু ঘটেছে, তা তদন্তপূর্বক জানা যাবে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তারপরও যেহেতু বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক হট্টগোল ও সমালোচনার হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন স্যারের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















