ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির শেষ বিদায়ে ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমাবেশের প্রস্তুতি, জানাজা সময় সূচি ঘোষণা

 

নিরাপত্তা ও চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ চার মাস স্থগিত থাকার পর, অবশেষে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ৬ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় বিদায় কর্মসূচির অংশ হিসেবে, ৬ জুলাই সোমবার রাজধানী তেহরানে তাঁর মূল জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার মাশহাদ শহরে দাফন সম্পন্ন হবে।ইরানের শহীদ সদর দপ্তর এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খামেনির শেষকৃত্যের এই বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করেছে।৬ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ:৪ ও ৫ জুলাই শনিবার ও রবিবার: রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রয়াত নেতার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।৬ জুলাই সোমবার: তেহরানে খামেনির প্রধান জানাজা এবং কেন্দ্রীয় শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এই দিন পুরো ইরানে সাধারণ ছুটি থাকবে।৭ জুলাই মঙ্গলবার: মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কট্টর শিয়া ধর্মীয় নগরী কোমে, যেখানে দ্বিতীয় দফায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।৮ জুলাই বুধবার: বিশেষ বিমানে মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ এবং কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় আচার ও জানাজা শেষে রাতেই আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।৯ জুলাই বৃহস্পতিবার: উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে শেষ জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় এই বিদায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।বিশেষ নিরাপত্তা ও সাধারণ ছুটিঐতিহাসিক এই সমাগমকে কেন্দ্র করে তেহরান প্রদেশে ৪, ৫ ও ৬ জুলাই তিন দিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৬ জুলাই দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি থাকবে। জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে রাজধানী তেহরান এবং মাশহাদ শহরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।২ কোটি মানুষের সমাগমের প্রত্যাশাইরান সরকারের কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ঐতিহাসিক জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এতদিন তাঁর মরদেহ রাষ্ট্রীয় গোপন হেফাজতে রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি।তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, এনটিভি অনলাইন, আরটিভি অনলাইন ও বাংলা ট্রিবিউন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক(পিপিএম) পেলেন  এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীব

খামেনির শেষ বিদায়ে ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমাবেশের প্রস্তুতি, জানাজা সময় সূচি ঘোষণা

আপডেট : ০৫:৫২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

 

নিরাপত্তা ও চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ চার মাস স্থগিত থাকার পর, অবশেষে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ৬ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় বিদায় কর্মসূচির অংশ হিসেবে, ৬ জুলাই সোমবার রাজধানী তেহরানে তাঁর মূল জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার মাশহাদ শহরে দাফন সম্পন্ন হবে।ইরানের শহীদ সদর দপ্তর এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খামেনির শেষকৃত্যের এই বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করেছে।৬ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ:৪ ও ৫ জুলাই শনিবার ও রবিবার: রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রয়াত নেতার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।৬ জুলাই সোমবার: তেহরানে খামেনির প্রধান জানাজা এবং কেন্দ্রীয় শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এই দিন পুরো ইরানে সাধারণ ছুটি থাকবে।৭ জুলাই মঙ্গলবার: মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কট্টর শিয়া ধর্মীয় নগরী কোমে, যেখানে দ্বিতীয় দফায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।৮ জুলাই বুধবার: বিশেষ বিমানে মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ এবং কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় আচার ও জানাজা শেষে রাতেই আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।৯ জুলাই বৃহস্পতিবার: উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে শেষ জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় এই বিদায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।বিশেষ নিরাপত্তা ও সাধারণ ছুটিঐতিহাসিক এই সমাগমকে কেন্দ্র করে তেহরান প্রদেশে ৪, ৫ ও ৬ জুলাই তিন দিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৬ জুলাই দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি থাকবে। জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে রাজধানী তেহরান এবং মাশহাদ শহরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।২ কোটি মানুষের সমাগমের প্রত্যাশাইরান সরকারের কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ঐতিহাসিক জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এতদিন তাঁর মরদেহ রাষ্ট্রীয় গোপন হেফাজতে রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি।তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, এনটিভি অনলাইন, আরটিভি অনলাইন ও বাংলা ট্রিবিউন।