বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধা মায়ের জীবনের শেষ সময়গুলো কাটছে কষ্ট আর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে। আপনজনদের কাছেই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের পাইকদী গ্রামের ডাবেগো বাড়ির মৃত বতু মিয়ার স্ত্রী ৬০ বছর বয়সী শহীদা বেগম।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুই পুত্রবধূর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। কখনো বড় ছেলের স্ত্রী, আবার কখনো ছোট ছেলের স্ত্রীর হাতে তাকে মারধরের শিকার হতে হয় বলে দাবি পরিবারের স্বজনদের।
সর্বশেষ সোমবার (২৯ জুন) সকালে ছোট ছেলে শাহ আলমের স্ত্রী মন্নির মারধরের পর শহীদা বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন।
শহীদা বেগমের ভাই দেলু বেপারী অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বোনকে প্রায়ই নির্যাতন সহ্য করতে হয়। দুই ছেলে কালাম ও শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই তিনি বারবার কষ্ট পাচ্ছেন। একজন বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভুক্তভোগী শহীদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দুই ছেলে ও তাদের বউরা আমাকে প্রায়ই মারধর করে। আজ শাহ আলমের বউ আমাকে অনেক মারধর করেছে। আমি আর এই নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, একজন অসহায় বৃদ্ধার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলম, তার স্ত্রী মন্নি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।




















