পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্তব্যরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী শহিদ সৈনিক মো. আবু হানিফা, এসবিপি-এর দ্বিতীয় শাহাদাত বার্ষিকী আজ (১০ জুলাই) যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকিচিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি বীরত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশ রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১০ জুলাই বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বান্দরবানের তামলোপাড়া টিওবি ক্যাম্পে কেএনএ-এর একটি সশস্ত্র দল অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দায়িত্বরত সৈনিক মো. আবু হানিফা বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অসীম সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ শহিদ সৈনিক মো. আবু হানিফাকে মরণোত্তর ‘সেনাবাহিনী পদক (এসবিপি)’ প্রদান করা হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশমাতৃকার সুরক্ষায় তিনি যে আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, তা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তার বীরত্ব, দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও এক উজ্জ্বল আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহিদ সৈনিক মো. আবু হানিফার আত্মত্যাগ স্মরণ করে এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেছে।
সূত্র : বাংলাদেশ আর্মি




















