ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহারাস্তিতে ডা”কা”তি নয়, দেবরের বউয়ের হাতেই খু”ন গৃহবধূ; আদালতে স্বীকারোক্তি

  • জামাল হোসেন
  • আপডেট : ০৭:২২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • 239

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বহুল আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। প্রথমদিকে ঘটনাটি ডাকাতির সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করা হলেও পুলিশের নিবিড় তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে হত্যা করেন তার ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্ত্বলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গভীর রাতে একদল ডাকাত বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে রিগান আক্তার মিম নিহত হন এবং একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা আহত হন। ঘটনাটি দ্রুত এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান-এর নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করতে গিয়ে পুলিশের কাছে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিশেষ করে আহত দাবি করা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনার বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত ও অন্যান্য তথ্যের মিল না পাওয়ায় তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলের আলামত, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয় শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।
নিহত রিগান আক্তার মিম শাহরাস্তি পৌরসভার বাত্ত্বলা গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম রনির স্ত্রী। তিনি তিন বছর বয়সী কন্যা সাইফা এবং চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী। ঘটনার সময় তার স্বামী কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসাই এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করায় শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান-এর নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দলের তৎপরতা প্রশংসিত হচ্ছে।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

শাহারাস্তিতে ডা”কা”তি নয়, দেবরের বউয়ের হাতেই খু”ন গৃহবধূ; আদালতে স্বীকারোক্তি

আপডেট : ০৭:২২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বহুল আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। প্রথমদিকে ঘটনাটি ডাকাতির সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করা হলেও পুলিশের নিবিড় তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে হত্যা করেন তার ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্ত্বলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গভীর রাতে একদল ডাকাত বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে রিগান আক্তার মিম নিহত হন এবং একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা আহত হন। ঘটনাটি দ্রুত এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান-এর নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করতে গিয়ে পুলিশের কাছে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিশেষ করে আহত দাবি করা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনার বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত ও অন্যান্য তথ্যের মিল না পাওয়ায় তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলের আলামত, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয় শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।
নিহত রিগান আক্তার মিম শাহরাস্তি পৌরসভার বাত্ত্বলা গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম রনির স্ত্রী। তিনি তিন বছর বয়সী কন্যা সাইফা এবং চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী। ঘটনার সময় তার স্বামী কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসাই এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করায় শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান-এর নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দলের তৎপরতা প্রশংসিত হচ্ছে।